শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

পতাকা বহিবার শকতি নাই

জর্জ বানার্ড শ -এর দেশ প্রেম সম্পর্কে উক্তি কি জানেন মশাই ? আচমকা এমন হাঁকে পিলে চমকে উঠল। আমি আনপাট গাওয়ার। দেশপ্রেম তাও কম বেশী বুঝি। তা বলে “বানার্ড শ”–এর বানী , কেমন বলত জানি? জিহ্বা আলটাকরা স্পর্শ করে জানান দিল “না তো”। উনি বলেছেন, “দেশ প্রেম হচ্ছে সেই ধারনা, যা বলে তোমার দেশ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট স্রেফ তুমি সেখানে জন্মেছ বলেই”। আমি তো রাজভোগ সাইজের একটা হাঁ করে তাকিয়ে রইলুম। আমি তো জানতুম দেশপ্রেম এমন এক বস্তু যাকে সম্বল করে বিশেষ বিশেষ দিনে (যেমন ১৫ই অগষ্ট ও ২৬শে জানুয়ারি) ত্রিবর্ন রাঙ্গা পতাকার সামনে দুদন্ড দাড়ালে একদিনের টিফিন ফ্রী। অথবা বাংলা পরীক্ষার দিন দেশপ্রেমের রচনা না পরলে ফেল। পাড়ার গৌতমদা মোটামুটি সবই জানে। সে বলে উঠলে, ভারত আবার জগত সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে...  তার জন্যে মোদের নিজ নিজ কাজটি সৎ ও নিপুন ভাবে করিতে হবে। কিন্তু করিবে কে? কে বলিবে, এস হে যুবসমাজ, উঠে এসো দেশের কল্যান রথে, ড্যাংড্যাঙ্গিয়ে মোরা, এগিয়ে যাব, দেশের প্রগতির পথে। অতএব হে পুন্য দিবসের লেকচার প্রবন দাদু আপনার একপেক্টেশনের নলেন গুড়ে, পরিপুর্ন বালি। ত্রিবর্ন পতাকার পদতলে শুধু কুড়াও হাততালি।
তাহলে এখন উপায়। বাঁচাবে কেডা দেশ ? কে হবে দেশের কল্কি?
ছেলেপুলের হাতের ডগায় শুধুই তো দেশাত্মবোধের উল্কি।
দেশ বাঁচাবে এরা। হবে কচু!  
শুধু শুধু রয়ে যাবে মুষ্টিবদ্ধ স্ট্যাচু।
আর রবে কিছু পাখি আর সুলভ শৌচাগার
(বল প্রভু,) দেশের এমন করুন দশায়, কে করিবে পার ।।

পার করিতে পারে একজনই। তার নাম “ঠ্যাকা”। ভগবান খুব সুন্দর গুছিয়ে যদি ঠ্যাকার বীজ প্রতিটি মানুষের ব্রেনের ডগায় যদি বপন করতেন তালে আর এমনটা দেখতে হত নি। তবে ভগবান খুব চালাক। সমস্যা যদি না থাকে তালে আমায় কেন ডাকবি ? তুই থাকবি কষ্টে আর তবে তো ডাকবি কেষ্ট। তবে মানুষের কোনও দোষ নেই। আসলে দিনের পর দিন আমাদের চারপাশ গলার অ্যামপ্লিফায়ার এমন ভাবে খুলে নিয়েছে যে এখন অন্যায় দেখলেও মোরা যোগেশ মাইম। একটা প্রকান্ড সাইজের ঈশশশশ... এর সাথে সমগ্র সহানুভুতির ভাব সম্প্রসারন।

এড়িয়ে চলি, তুচ্ছ বলি, চোখের ডগা টাটায়।
আগে তো বলবেন, অন্যায় এটা!  স্টাক করেনি মাথায়।

তা বলে কি অন্যায় কে সর্বদা প্রশ্রয় দেই? প্রতি এন সখ্যক রাগের বহিপ্রকাশ ঘটে এন প্লাস ওয়ানে।
কপাল তোর ফাটাই হবে, কষ্ট করে সয়ে নে। ঠিক জ্যোতিষ জুটে গেল অমনি। লাটাই যেমন ঘুড়ির কন্ট্রোলার তেমনই এরা গ্রহরত্নের। তাবর তাবর বিজ্ঞানীরা চুল ছিরে পটচুলা করে ফেললেন আর আপনার আঙ্গুলের তর্জনী তে মঙ্গল, মধ্যমায় বুধ। সত্যি !! এইরকম ভাবে দিনের পর দিন ঠকছেন। রাগ অভিমান দুঃখ সইছেন। এরপর একদিন পকেটমার পেলেন অথবা কাজের বউ দেরি করে এলে জেগে উঠল আপনার নৈতিকতা। ধুর মশাই, রাখেন আপনার বুলি। অন্যায় কে প্রশয় আমি কেমনে দিয়ে চলি। এই আপনার মেঘনাদ সুলভ নৈতিকতা থাকে কথায় সারাদিন?

তাও গান্ধীজি টাকার কড়কড়ে নোটে আছেন বলে ভালোবাসা তাও পাচ্ছেন, বাকিদের অবস্থা খুব শোচনীয়। আপনি বারে গিয়ে খেয়ে উপলব্ধি করেন, অ্যাঁ! ক্ষুদিরাম বার খেয়ে মরিল। স্বাধীনতার দিনে আপনার সনাতন সতীপনায় চুবনি খেয়ে গান্ধীজী তখন গ্লাসের তলায় হাত বদলের অপেক্ষায়। নিয়ত হেসে চলেছেন। অহিংসতার চাক্ষুস উপলব্ধি।

চারিদিকে শুধু অনিচ্ছা আর কুড়িয়ে পাওয়া সুখের জন্যে নেত্য।
ধামা ধরা হোক সকাল রাতি, শুধুই থাকুক আনুগত্য।
চুলোয় যাক দেশ যদি যায়, অবস্থা যা চারপাশ?

দেশপ্রেম থাক মনের খাঁচায়, শুধু বাচুক আমার পারপাস।।

কোন মন্তব্য নেই: