ঘুড়ি আমার ছোটবেলার প্রেম। অবশ্যি প্রেম এখন আর নাই। টিউশনে একটি মেয়ে কে
ভাল লাগিলে ও যেমন সর্বদা ভালবাসি বলা যায়না এ আমার সেই গোছের প্রেম। পরে শুনিলাম
এখন সে বিশ্বকর্মার গার্ল ফ্রেন্ড। ফিগার টা তাহার খাসা। দিন দিন জেল্লাও বাড়িছে। রঙ্গিন
কাগজে দুটো কাঠি তে দিব্যি কেমন লেপ্টে থাকে। তারপর সুতোয় বেঁধে উরিয়ে দিলে মাঝ
আকাশে ধাঁ। যদিও আমার দ্বারা এ শিল্প কোনদিন মাঝ আকাশ তো দুরস্ত ল্যাম্প পোষ্টের
কাধেও চরেনি। অতএব ঘুড়ি লাটাই তে বেঁধে টেনে উসেইন বোল্ট। তাতে অবশ্যি ঘুড়ি কিছুটা
উড়ত। এরপর তুমি ওকে আকাশের দিকে যেমন খুসি ছুড়ে দাও তোমার অঙ্গুলিহেলনে আকাশে এদিক
অদিক করবে আবার তুমি হাফিয়ে গেলে তোমার পাদপদ্মে এসে বিশ্রাম নেবে। কোনও অহঙ্কার
বোধ নেই মশাই। কি অমোঘ ভালোবাসা। তাপস পালের পরে এহেন গুরুদক্ষিনা কে দিয়েছে ?
বিশ্বকর্মা পুজোর ঠিক প্রাক্কালে বিরাটি মোড়ের মাথায় রঙ্গিন সুতোর পসরা
নিয়ে এক দাদু বসতো। তার ঘুড়ির সুতোয়-ই নাকি এমন ধার তা দিয়ে গালের দাড়ি কাঁটা
যেতো। পাশের পাড়ার বল্টু ঘুড়ি ওড়ানোয় চোস্ত। সে বলে জামায় মাঞ্জা না থাকিলে যেমন
প্রেম জোটে না তেমনি বল্টুর নিজের হাতের মাঙ্গা সুতোয় না পড়িলে ঘুড়ি কাটে না। অতএব
মাংসের দোকানে গিয়ে পাঠার কান ধরে টানাটানি। মাতালের বোতলের শেষ বিন্দু পযন্ত ওয়েট
করা। তারপর রঙ্গ, কাচের এক অদ্ভুত মিশ্রন সুতোয় লেপে সারাদিন মাঠে চক্কর। সে সুতোয়
কি দেমাক। বল্টু একটা হিংস্র হাসি দিয়ে বলে কাল আসিস বাড়িতে। দেখিস আকাশে কেমন করে
শুধু আমি উরে বেড়াই। ঘুড়ি দিনে গোটা কুড়ি ঘুড়ি না কাটতে পারলে নাকি তার নাক কাটা
যাবে। অতএব সারাদিন লাটাই ধরে ওর পিছুপিছু বল্টুর বাড়ির ছাদে পরে থাকা আর কটা ঘুড়ি
কাঁটা গেল তার হিসাব রাখা। আমি অবশ্য নাক কাটার হিসেব রাখতাম। অন্যের ঘুড়ি কাঁটা
গেলেই কানে ভোঁ লাগিয়ে দিয়ে ভোঁ কাট্টা... সে এক অমোঘ আনন্দ। টিচার বন্ধুর খাতায়
ক্রস কাটিলে যা আনন্দ হয় তার থেকেও ঢের বেশি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন