সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে স্নান খাওয়া সেরে কলেজ
যাওয়ার মতন কষ্ট, মাগো। আল্টাকরায়
জিহ্বা চেপে কষ্ট ভোগ করি। ঘুম থেকে ওঠার থেকে ট্রেনে ওঠা পর্যন্ত নিত্য মনের ওপর
চলা এই টাগ অফ ওয়ারের সাক্ষী আমার মা আর বৌদি। যাই হোক, তারপর
কোনোমতে গিলে, বিবর্ন মুখে বাড়ি ত্যাগ করি। অতঃপর ট্রেনে করে বিশরপাড়া টু দুর্গানগর। সেখান থেকে রাজসিক ভাবে বিপুলানদার বাইকের পিছনে নিতম্ব সেঁটে কলেজ যাওয়া। কিন্তূ এই বিশরপাড়া থেকে ট্রেনে ওঠা আর দুর্গানগরে নিজেকে রিলিজ করার মধ্যে যে মানসিক
বলের প্রয়োজন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একের পর এক ট্রেন চলে যায়। আমি প্রবল
বিক্রমে অত্যন্ত অশ্লীলতার সাথে গেটে ঝুলন্ত মনুষ্যকুলের প্রতি E=MC^2 প্রয়োগ করতে থাকি। এদিকে আমার M এর যা বহর তাতে বনগাঁ লোকাল অত্যন্ত নোংরাভাবে পিছন দেখিয়ে
স্টেশন ত্যাগ করে। তবুও গুটিকয় সৌভাগ্যবান এই ট্রেনেও নিজের পায়ে দাড়াতে শেখে। গা
জ্বলে যায় দেখলে। আমি একেই দুবলা পাতলা বেবি. যদিও
রাজ চক্রবর্তীর মত দাপট দেখিয়ে ট্রেনগুলো কে ছাড়ছি। চাইলেই উঠতে পারতাম কিন্তু
উঠলাম না এই গোছে। আরে এই তো গেল বুধবার, বিধাননগর স্টেশনে
দাড়িয়ে এক বয়স্ক দাদুকে তেড়ে গ্যান দিলুম। বনগাঁ লোকালে ওঠার প্রাথমিক শর্ত,
সাবধানতা ইয়াদি বিষয়ে। ট্রেনে ওঠা কোনো ব্যাপার নাকি মহায়? কেউ আপনাকে উঠতে দেবে না এখানে। আমার কাছে তো ট্রেনে ওঠা মানে চু কিতকিত
খেলার মত। আমার মত এহেন প্রতিভাবান রা পৃথিবী তে আছে বলেই বনগাঁ লাইনে এত লোক যেতে
পারে, ইত্যাদি। দাদু শুনে তো থ। পিছন ঘুরে কাকে যেন বলতে গেল “চল মা তালে পরের ট্রেনে যাই”। আমিও
তাচ্ছিল্যের সাথে পিছনে তাকাতেই ব্যাকগ্রাউন্ডে গান বাজতে লাগল, “প্যার কি রাহ ম্যে চলনা শিখ…” নাতনি-ই হবে। ওদিকে ট্রেন ঢুকছে। মুহুর্তে দাদু কে বললাম, আমি থাকতে “আমার” দাদু ট্রেনে উঠতে পারবে না হতে
পারে। দাদুকে এক্সোর্ট করে সামনে নিয়ে এলুম, নাতনি আমার
পিছনে। একবার ট্রেনে উঠে পরলে, গোটা ট্রেনে দাদুর কাছ থেকে
সহানুভুতি চেটেপুটে খাব। এসব ভাবতেই ট্রেন হাজির। পুরো গেটকে সুপারভাইজ করে লোক তুলে নিজে উঠতে গিয়ে যাচ্চলে! বেঢপ লোকটা গেটটা এমন ভাবে আটকে দাঁড়িয়ে আছে উঠতে পারলাম না। একব্যাগ
আত্মত্যাগ বনগাঁ লোকালে তুলে স্টেশনে গান্ধীজি সেজে দাড়িয়ে রইলাম। মনের সকল
ফ্যান্টাসী মুহুর্তে শিফিট ডিলিট।
সত্যি ভাই, আমার জীবনের রিসাইকেল বিন দেখতে চাসনা কখনও !
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন