বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭

সরস্বতই নম!

উফফ কি সাঙ্ঘাতিক দিন মশাই। সরস্বতী পুজা থকিলে কোথায় আর বসন্ত মাস লাগে মশাই। বছরের একচুয়াল বসন্ত তো আজই। বাড়িতে কোনোমতে অঞ্জলি নম নম করে সেরে নতুন আনকোরা পাঞ্জাবীটা পরে, সদ্য জলে ভেজা অবাধ্য চুলে টেরি কেটে বেরিয়ে পড়া। পিটুইটারি আজ টগবগ করে ছুটছে। আজ কিছু একটা হবেই। রিক্সা ধরে বিরাটি এলুম। উফফ রিক্সা আর মনের কোনা দুটোই যেন হুহু করছে। এমন সময় রিক্সা স্ট্যান্ডে তোকে দেখলাম। হলুদ শাড়ি তে তুই দাড়িয়েচোখের কাজল পরে বেশ লাগছে। লিপস্টিক টা হাল্কা থেবড়ে গেছে কিন্তু বেমানান নয়। শাড়ির আচলটা বড্ড দস্যিপানা করছে আজ। তোর পাশে গিয়ে দাড়াতেই শরীরের ভেতর আড্রিনালিনের চোরাস্রোতের গতিপথ মালুম হল। উফফ কেন যে এমন মিস্টি একটা হাসি দিলি কে জানে। মুহূর্তে চারপাশ টা ডিডিএলজি-র সর্ষে খেত। মাতালের মতন বললাম, “কথায় যাচ্ছিস?” 
- প্রত্যুত্তর এল, “বিরাটি মোর”।
- “চল আমিও যাব।” চরম রোমান্টিক মুহুর্তে রিকশাওয়ালা বলে বসল, “দিদি যাবেন?”
 পাকামো দেখলে নিতম্ব জ্বলে যায়। তুই ঘাড় টেবিল ফ্যানের মত করে নেড়ে জবাব দিলি। পিছনে একটা তির এসে বিঁধল। সত্যি মদন দেবের টিপ খুব ভাল।
জগতের সকল পার্থিব অপার্থিব বস্তুর প্রতি আমার ভালোলাগা। তার ট্যাঞ্জেনশিয়াল রেডিয়াসের মধ্যে যে তুইও আছিস তা কে জানত। মনে ফুটফুটে প্রেম কিন্তু প্রকাশ করতে পারছি নে। কপালে আজ কি আছে কে জানে? বিরাটি মোরে এসে হটাত আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুড়লি, “স্কুলে না গিয়ে এতটা পথ আমার জন্যে কষ্ট করে এলি ?... থ্যাঙ্কস”।  
প্রত্যুত্তর রেডি ছিল কিন্তু প্রেম আলটাকরা তে আটকে গেল। মুখ ফস্কে বেরোল- “সাবধানে যাস।”
-       “ওমা যাব কি? আমি তো তোর জন্যেই বেরিয়েছি।”  বিচ্ছিরি টিউব লাইটের ডোজ বেড়ে উঠল। 
-             পকেটে বাম হাত ঢুকিয়ে উহার সামর্থ্য বুঝে নিলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, “তুই ক্রিম-আইস খাবি ? ইয়ে মানে ... ”। আমার জিব টেনশনে পরলে যে লালায় হরকায় তা জানতুম নে।
-             না রে ইয়ার্কি করলাম স্কুল যেতে হবে। বলতে বলতে হতচ্ছাড়া ক্রাইস্ট চার্চের স্কুলবাস টা এসে দাড়াল। বাসের পাদানি তে পা দিয়ে পিছন ঘুরে তাকালি। কপালের সবচেয়ে লম্বা চুল টা কানের গোঁড়ায় গুজে দিলি। উফফ প্রেমের উনোনে হাল্কা ফু-য়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে গেলি।

স্কুলে ফিরে সরস্বতী কে প্রনাম ঠুকলাম - “মা দেখো ... মদন স্যার আজকের ব্যাপারটাকে যেন সিরিয়াসলি নেয়।” 

কোন মন্তব্য নেই: