সবেমাত্র দুপুরের টিফিনটা গিলে ফোর্থ ফ্লোরের আইটি ল্যাবে বসে ক্ষণিক ল্যাদ খাচ্ছি। মাথার ঠিক ওপরের দামড়া এসিটা সারা শরীরে ঠান্ডা বাতাস মাখিয়ে দিচ্ছে। আমিও জুলু জুলু চোখে নলবনের দিকে তাকিয়ে আছি
– ফিলিং রবীন্দ্রনাথ। হটাতই মাথা টা হালকা দুলে উঠল। যাহ্, ডেঙ্গুর সিম্পটম নয়ত! চারপাশে হালকা ঘাড় নাড়তেই, ভুমিকম্প হচ্ছে টের পেলুম। আদও কি হচ্ছে? সিলিং ফ্যান গুলো ঘাড় দোলাতে দোলাতে জবাব দিল, ‘আজ্ঞে’। সর্বনাশ! ভয়ের সাথে, মুনওয়াক করতে করতে ল্যাব থেকে বেরলাম। চোখেমুখে শ্রীকান্ত সুলভ মৃত্যু ভয় লেপে আছে। আসলে সল্টলেক CU-র বাহ্যিক দেওয়ালের যা অবস্থা, তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করিলে ইন্দ্রনাথও মরতে ভয় পাবে বইকি। কারনে অকারনে কলেজের দেওয়ালের টালি গুলো সুইসাইড জাম্প মারে। অতঃপর তড়িঘড়ি সিড়ি বেয়ে নিচে নামলাম। চারপাশে প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকম্প অনুভব করার লোমহর্ষক কাহিনি শোনাচ্ছে। কেউ সিঁড়িতে ওঠার সময় হোঁচট খেয়েছে আবার কেউবা লিপ্সটিক মাখতে গিয়ে গালে থেবড়ে থুবড়ে একশা। এদিক ওদিক তাকিয়ে দৌড় লাগাব কিনা ভাবছি। এমন সময় পাশ থেকে একজন উশেইন বোল্ট সুলভ দৌড় লাগাল- আবার ভুমিকম্প।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন