বইমেলায় গেলে প্রতিবারই একটা আলাদা শিহরন
জাগে। নতুন বই এর সাথে ধুলোর গন্ধ মিশে একটা আলাদা নস্টালজিয়া জন্মায়। তার মানেই
যে বই এর প্রতি আমার প্রবল ভালোবাসা তা নয়। আমিও ঐ ভিড় বাড়ানোর দলে। এখানে
প্রশ্নটি হল বাঙ্গালী আবেগের। “ভাই
বইমেলা যাসনি ?” কি অন্যায় করে ফেললুম কে জানে বইমেলা না
গিয়ে। বইমেলা হল গিয়ে কুলীন মেলা। অন্য মেলায় তুমি যাও আর না যাও বইমেলার ধুলিতে
তোমার পদধূলি না পড়িলে চলে ! আরে বাওয়া, হেথায় কবির
ব্রেনের বুলি, (আমাগো) গবেট মাথা দেবে খুলি। অগত্যা...।
ওরে
এখানে তো আর ঘরগৃহস্থালীর মাল বিক্রি হচ্ছে নে। এখানে বিশ্বের তাবর তাবর ব্রেনের উপচে পড়া
জ্ঞ্যানের রসে নিজের কালচার মাপতে পারবি। কি বললি প্রমান চাই। ওরে অজ্ঞের দল।
সুন্দর দেখে একটা স্টল খুঁজে মোবাইলে একটা সেলফি তোল। ব্যাস, হয়ে গেলো, স্মেলিং কলচর উইথ রবীন্দ্রনাথ অ্যান্ড ৫২
অথার্স। বাঙ্গালী হয়ে জন্মেছ ইস্তক তোমার পশ্চাতে বামে তথা ডানে যে সংস্কৃতির
ধাব্বা লাগিল তার প্রায়শ্চিত্ত পুরনের একমাত্র স্থানই তো বইমেলা।
সারা
বচ্ছর বইএর পাতা উল্টে দেখি আর না দেখি এসময় টা বাঙ্গালীকে তার কক্ষপথে আটকে রাখে, জগতে এমন ব্যাঘ্রশাবক অমিল। আমার কলেজ থেকে বর্তমান
বইমেলা তো ওয়াই ফাই ডিসটেন্সে। যান্ত্রিক বাহনে ৫ মিনিট। কাল অযাচিত বই প্রেমিক এর
মতন হাজির সেথায়। শত হলেও বাঙ্গালী শাবক তো। বেশ কিছু স্টলে ঘোরাঘুরি করে, গুটিকয়েক বই কিনে এক ফোয়ারার দেওয়ালে সবে নিতম্ব সেঁটে বসেছি। পাশে বসা সচিন
সৌরভরা ফর্ম খুললেন। কেউ এর আগে ১২ বার তো কেউ
২১ বার বইমেলা এসেছেন। আগে নাকি বইমেলায় প্রান ছিল। সর্বনাশ। স্যার জগদীশ বাবু তবু
তো গাছের প্রানের প্রমান পেয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ের সাঙ্ঘাতিক সাহিত্য, রচনায় তারা পুষ্ট হয়েছেন। লজ্জা ঢাকতে সদ্য কেনা চুটকির
বইটা বগল দাবা করে হাটা দিলাম। বই কিনলে নিকো পার্কে রাইড ফ্রী। ওখানেই লাইন দিলুম। সিংহের সাহস
সঞ্চয় করে নন্টে ফন্টের একটা দামড়া বইতে অঙ্গুলি নির্দেশ করলাম- “দিদি এইটার দাম কত?” প্রত্যুত্তর এলো- বাদামী
গান্ধী। সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে মানসিক সান্তনা- “তুমি কি এখন
ছোটো যে এই সব পড়বে!”
স্টল থেকে বেরিয়ে ফুড কোর্টের
দিকে গেলাম। ইডলি, ধোসা,
রোল, কাটলেট, মিষ্টি
কি নেই সেথায়। বইমেলার এপ্রান্ত সহসাই জেনো খাদ্যমেলায় পরিবর্তিত হয়েছে। পাঁচিলে
বসে মানিব্যাগ ও পেটের খিদের মধ্যে টাগ অফ ওয়্যার চলছে। পাশে বসা এক তরুণী তার
প্রেমিকের গালে লেগে থাকা সসের দাগ মুছে দিচ্ছে। মনের খিদেও সাথে সাথে চাগার দিয়ে
উঠলো। না আগে পেটের খিদে তো মিটুক। অগত্যা চিকেন রোলে কন্সেন্ত্রেট করলাম।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন