এইতো উচ্চমাধ্যমিকের ডগার কথা। মুখে তখন
হাল্কা গোঁফের রেখা সবে ঠোঁটের মাত্রা আঁকতে ব্যস্ত। আমার আবার খুব গোঁফের সখ। তখন
প্রেম বলতে গোঁফ। প্রিয় এক বান্ধবী বলল, এই গোঁফেই নাকি আমার কচিত্ত্ব হারায়। আমি
যে তোকে চোখে হারাই সে কথা তো বলতে পারিনি। বললাম, “শিকারী বেড়াল গোঁফে চেনা যায়
তাই... খ্যাক খ্যাক।” গোড়াতেই প্লেটনিক লাভের ছন্দপতন। প্রতি সপ্তাহের বিজোড়
সংখ্যক দিনে নীলাচলে শুনু পিসির কাছে যেতাম। হালকা চিকন গোঁফে হাত বুলোতে বুলোতে
সাহিত্য কে খাতায় আবদ্ধ করতাম। আসলে সাহিত্য তো ছুঁতো, যেতুম তো তোর টানে। প্রত্যহ
গোঁফের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে আমার পক্কতা নির্ধারিত হত তোর কাছে। সাদা খাতায়
পেন চলত, গোঁফের ডগায় তর্জনী ঘুরপাক খেত। আসলে গোঁফের বয়সের সাথে সাথে প্রেমের
বয়সটাও বাড়ছিল। উচ্চমাধ্যমিক শেষে আর দেখা হয়নি তোর সাথে। প্রেমের মৃত্যু হলেও
গোঁফ এখনও বেঁচে। সেদিনের নস্টালজিয়া গোঁফে এখনো লেগে আছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন