বিয়ে বলতেই তো আসল মজা। যতই দজ্জাল রিলেটিভ
হোক না কেন কেউ এসময় পড়তে বলতে পারবেনা। সকাল থেকে ল্যাদ খাচ্ছি। বিন্তি মাসির
ছেলের সাথে খ্যালছি। ও আমার থেকে দুই বছরের বড়। মামাকে দেখলুম গায়ে হলুদ মেখে রেডি
হচ্ছে। রান্না ঘরের পাশ থেকে ঘুরে আসার সময় কাতলার পিস গুলোকেও হলুদ মাখাতে দেখে
এলুম। বুকের ভেতর টা ছ্যাত করে উঠল। যাক গে বড়দের ব্যাপার! দুপুর গড়িয়ে রাত হল।
খেতে বসলে আমার বাপু টাইম লাগে। বিয়ে বাড়িতে সবে কাবাবের হাড্ডি চুষছি, অন্যেরা
মাটনে প্রমোশন পেয়ে গেছে। পাতে মোটামুটি একটা মিনি এভারেস্টের চুড়ো তৈরি হয়েছে।
নাকের জলে চোখের জলে একাকার। সবাই মোটামুটি কোর্স কমপ্লিট করে উঠে গেছে। বাবা তো
রাগেই অগ্নিশর্মা, “আর খেতে হবে না, এবার হাত মুখ ধুইয়ে তুলে দাও”। মা ফায়ারওয়ালের
মতন ক্যাটারিং সামলাচ্ছে – “আহা, বাচ্চা মানুষ খাবে না!” আমি তো হাপুস নয়নে কোঁত
কোঁত করে গিলছি। বলতে না বলতেই বিষম খেলাম। মাথায় ঠনাত করে আদুরে টোনা এসে পড়ল। চ্যাংদোলা করে
সিট থেকে তুলে হাত ধুতে নিয়ে গেল। এরপর ঘুমতে
যাওয়ার পালা। চিলেকোঠার ঘরে ঢালাও বিছানা করা হল। মাসীর মেয়ে তো শুয়েই চ্যা ভ্যা
করে কাদতে থাকল। তার নাকি প্রবল ভুতের ভয়। আমিও যে খুব সাহসী তা নয়। শুতে না শুতেই
সাপোর্টও জুটে গেল। ভট্টাচার্য জ্যাঠুর বাবা গেল বুধবার মারা গেছিল। একসপ্তা
কাটেনি। সত্যি বলতে কি তার গা থেকে এখনও শ্মশানের গন্ধও কাটেনি। এমনিতেই বাচ্চা
সহ্য করতে পারত না। এসব শুনে টুনে আমি আর কথা বলব কি, কাথা টেনে কুন্ডুলী পাকিয়ে
শুয়ে পড়লাম। রাম...রাম !
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন