আমি একটি গৃহপালিত প্রানী। ইয়ে মানে হস্টেল-পালিত নহে। বাড়ি হতে ওয়াইফাই ডিস্টেঞ্চে টিউশন টু
স্কুল।
সবই লোকাল। উচ্চ মাধ্যমিক কোনোমতে উতরে যখন কলেজে ভর্তি হলাম মুখ থেকে নারায়ন দেবনাথীয় অনুভুতি বেড়িয়ে এলো- ওকৎ ! চারপাশে কত লোক সবাই ছুটছে।
কত ছেলে মেয়ে সেজে গুজে কলেজ ঢুকছে বেরুচ্ছে। যথারীতি স্মার্ট হওয়ার চেষ্টা করা শুরু করলাম। হস্টেলের ছেলেদের দেখে খুব ভালো লাগত। কি সুন্দর সারাদিন ঘুরে বেরাচ্ছে। পুরো প্রাচ্য টু পাশ্চাত্য ঘেঁটে ফেলছে। সকালে মিষ্টি সুপুরি গুজে কলেজ ঢুকত। তারপর সুন্দরী বান্ধবীর ব্যাগে প্রেমপত্র গুঁজত। আর আমি ব্রেডবোর্ডে তার গুজতাম। দিনের শেষে একগুচ্ছ তারের জঞ্জাল নিয়ে কবি সুকান্ত পোঁচে ল্যাবের ছাদের ছ্যাদা গুনতাম। হস্টেলের বন্ধুরা স্মার্ট। কয়েকজন কাঁটা তার দিয়েই লাভ সাইন, আংটি বানিয়ে সহপাঠীনির মনচুরি করত। সে কায়দা রপ্ত করতে গিয়ে একবার ট্রান্সিস্টর পুড়িয়ে একসা। যথারীতি কলেজীয় প্রেমের টিআরপি-র পতন।
আমার কলেজতুতো এক বন্ধু ছিল। এমনিতে খুব ভালো। ভীষণ বুদ্ধি রাখত। বয়েসে আমার থেকে খানিক ছোট কিনতু বেড়েছে একেবারে চক্রবৃদ্ধি হারে। ল্যাবে যত LED বাল্ব ছিল সব জড়ো কড়ে উজ্জ্বল হার্ট সাইন বানিয়ে একদিন আমাদের চমকে দিল। উফফ। সে কি জমকালো ব্যাপার। ওদিকে সামনেই পরীক্ষা। কিছুই পড়াশোনা হয়নি। স্যারের পায়ের গোরায় নিতম্ব সেটে ষাট ওয়াটের বাল্বের মতন ডিপ্রেশন পোয়াচ্ছি। স্যার সাজেশন প্লিজ! বলতেই স্যার এমন একটা এক্সপ্রেশন দিলেন যেন কিডনি ধার চেয়েছি। ল্যাবে এক দাদা ছিলেন। তিনিই যথা সময়ে বিশল্যকরণী হতেন। বিকেল গড়াতেই পরিবেশবিদ্যার ক্লাস হত। সারাদিন বিরক্তির পর এই ক্লাসটাই মরচে ধরা জীবনে অক্সিজেনের ঝাপটা মারত। আর্টস, কমার্স সায়েন্স সব এই ক্লাসে এক হত। মনীন্দ্র কলেজের আর্টস... উফফ। পরিবেশ সম্পর্কে কতটা ওয়াকিবহল আমি শুধু সেই ক্লাসই জানত। প্রথম প্রথম যে এই আনন্দ চেটেপুটে খেতে পারতুম তা নয়। একদম আনপাট গাওয়ার। সব মেয়ে কেই ভালো লাগত। বন্ধু টাই প্রথম শেখালো, ঘাম আর ঘামাচি এক নয়। প্রেম চুইয়ে পরে তোমার হৃদয়ের পিত্তি যতক্ষণ না গেলে দিচ্চে তুমি বাপু বেনী ভিজিয়ো না। সব শুনে গাল পাতলুম, শুয়োর সোনা।
তবে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সে আছে। তার সমস্ত বুলি র প্রথম অধ্যায় শুরু হত আমায় আদ্যোপান্ত চেটে অতপর কি করনীয় সেইসব বলে। একবার পরীক্ষা চলাকালীন টয়লেটে গেছি। গন্ধের চটে অন্নপ্রাশনের পায়েসের টেস্ট পেলাম। দূর থেকে কোনও মতে প্যারাবোলিক স্টেটমেন্টে কিডনি ক্লিয়ার করে বেরুতে যাব, মুর্তিমান হাজির। বললে, “পরীক্ষা চলাকালীন চোখ মেরে দে। এই সুযোগ। ধরা পরলে বলবি, কাল রাতে ঘুমোস নি। তাই চোখের পাতা ...।“ সেদিনও চোখের যেকোনো একটি পাতার হাই শাটার স্পিড কেই যে চোখ মারা বলে জানতুম ই না। বন্ধুর কথা শুনে কখনই উদ্যমী হয়ে কিছু করতে পারিনি। কিন্তু এটুকু বুঝেছি প্রেম অনেকটা গালে হওয়া কচি ব্রনোর মতো। কচি অবস্থায় পুতির মতন পুটুস পুটুস হলে হেভি ভালো লাগে।