বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭

ভারতবাসীর দেশপ্রেম “পাক”

সত্যি বলছি মাতে!  কি খেলা দেখালে রাতে!


পাকিস্তানকে হারানোর মধ্যে যে সুখ সত্যি বলছি তা পৃথিবীর কোন কিছুর মধ্যে নেই। পুলিশ ঘুষ না নিয়ে পাসপোর্ট দিক, বা গার্লফ্রেণ্ড অযাচিত ভাবে ওষ্ঠই রঙ্গিন করুক। সন্ধ্যাবেলা টিভির এক্কে বারে সামনে দুই হাটু জড় করে গলার শির ফুলিয়ে চিল্লাব, দেশাত্মবোধের প্রমান স্বরুপ পাকিস্তানের গুস্টি উদ্ধার করব তবে না খেলা। ওরে বাবা বাদ বাকি তো নেকুয়ার দল। ওদের হারিয়ে আবার মজা আছে নাকি। তুই কোনটা প্রেফার করবি বল? রঞ্জিত মল্লিকের মতন গীতার বচন ছুড়ে দূর্বিত্তের মন গলানো নাকি মিঠুনদার মত উদম ঠ্যাঙানি। কাল বিরাট যখন ব্যাট চালাচ্ছিল তখন বিশ্বাস কর, মনটা অনুশকা হয়ে গেছিল। তবে যাই বল, আমরা হলেম গিয়ে অবলা জাতি। আমরা জুলুজুলু চোখে টিভি পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকি, দাঁত দিয়ে নখ চিবাই আর খেলায় জিতে গেলেই স্বমুস্ঠী উত্তোলিত, জিতছি। আমরা তো আর দেশের বর্ডারে বন্দুক নিয়ে গুলি চালাতে পারব না। অতএব বিরাট-ই ভরসা। ওঁ যখন খেলা শুরু করে তখন বোধ হয় অনুস্কা শর্মা কেজি টূ। তখন থেকে ওর প্রেমে। ও কি শুধু ব্যাট চালায় রে, ও তো পুরো দেশের হয়ে বুলডোজার চালিয়ে দেয়। ওর একেকটা চার ছয় যেন বনগা লোকাল মিস করার দুক্ষ ভুলিয়ে দেয়।  কি বললি মাথা গরম। সে তো শিবের ও মাথা গরম। তাবলেই তো দেবাদিদেব হতে পেরেছে। আমাগো এই চড়াই মার্কা বুক সাড়ে ৩৬ ইঞ্চি করার স্পর্ধা শচীন, গাঙ্গুলীর পর আর কে দেখাইলো শুনি? এরাই তো আমায় সুযোগ দেয় দেশপ্রেম দেখানোর। কি দেশপ্রেম বলে কিছু হয়না। আরে বাবা ওই ছেলেবেলায় অঙ্ক খাতার পাতা ছিরে কত্ত ত্রিরঙ্গা এঁকেছি তার ইয়াত্তা নেই। অই তো দেশপ্রেমের সুত্রপাত। হা বাবা, প্যারেড ভি কিয়া হে। কিন্তু যতই হোক, পাকিস্তানকে হারালে দেশপ্রেম এর যে চড়া গন্ধ বেরোয় তাকে উপেক্ষা করি ক্যামনে? 

কোন মন্তব্য নেই: