বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৫

আমাগো অজ্ঞতায় তমাগো অসহিষ্ণুতা

প্রেক্ষ্যাপটঃ   আমীর খানের বক্তব্যে অসহিষ্ণুতা

ভীষণ রাগ হচ্ছে... ভীষণ। সব্বাইকে গাল দিতে ইচ্ছে করছে... যতসব হোমো সেপিয়েন্সের বাচ্চা। তদুপরি ফেসবুক। কথায় আছে না, অধিক সন্ন্যাসী তে গাজন নষ্ট। সুযোগ তুমি পেয়েছ তো কি খিস্তির বালতি উপুত করেছ। আমীর খান কি বলেছেন কি বলেননি জানিনে, সত্যি বলতে জানার ইচ্ছেও নেই। তবে ভারত সহিষ্ণু দেশ কিনা এব্যাপারে আমারও সন্দেহ হতে শুরু করেছে। হ্যাঁ তবে অন্যান্য সকল দেশের থেকে অনেকটা সহিষ্ণু হয়ত। একজন দেশের নামে কি কহিল তা বিশদে জানার আগেই যেভাবে ভারতবাসী তার বস্ত্রহরনে নেমে পরিল তা অভুতপুর্ব। যেখানে আমরা নিজেরাই একজন লোকের কোথায় নিজের সহিষ্ণুতার প্রমানে অপারগ সেখানে দেশ কিভাবে সহিষ্ণু হইবে। আসলে সহিষ্ণুতা এক গাল ভরা শব্দ। বলতে হেব্বি মজা। অনেকটা টিক মার্ক ওয়ালা কোয়েশ্নের মতন। টিক মারলেই হল। প্রমান করতে হয়না। আর এদিকে ডিগ্রীর ঝাঁ চকচকে মোড়কে যে রেটে জনগন কুশিক্ষ্যা বিলোচ্ছে তাতে স্বয়ং বিষ্ণুর দিব্যি, সহিষ্ণুতা ধর্মের ষাঁড় রুপে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। আসলে জীবন মানে জি বাংলা নয়। বাস্তবিক জীবন বড়ই পানসে। মিডিয়ার সজাগ চোখ হতে বাচতে মধ্যবিত্ত সমাজ কতদিন গণধোলাই এর গেমে পার্টিসিপেট করেনি। ঠাটিয়ে চড়... উহু তাও না। সাহস নেই, আবার খ্যামতাও নেই। মনের জ্বালা, রাগ অভিমানের হরমোন গুলো শুধু শুধু পচছে। ইউজ না করিলে জাস্টিস হলো নি বাপু। সো আমরা রাগ দেখাব। সুযোগ পেলেই লাথাব। বলে মারিলে গোষ্ঠ পাল... অসহিষ্ণুতায় আস্ত  ... !  (না সব জায়গায় ছন্দ মেলানোর তাগিদ নেই আমার) তবে দেশ নিয়ে কোনও কথা হবে না বস।
এরপর মুসলিম হলে তো কথাই নেই। প্রেম চোপরা আরে মুসলিম দের মধ্যে হেভি মিল। এই দুই জনের ভিলনত্ত্ব সমাজে স্বতসিদ্ধ্। তুমি দোষী... এ পর্যন্ত ঠিকঠাক। আবার মুসলিম ও। তালে ওরা তো অমন করেই থাকে। নন স্ট্যান্ডার্ড। এ ট্রেনিং তো সমাজ ছেলেবেলা থেকেই দিয়ে এসেছে। সুযোগ পেলেই জাত তুলে বিজাতের প্রতি ক্ষেদ। না এ অন্যায় নয়। শুধুমাত্র এহেন বিদ্বেষ কে নীতি আদর্শের রসে চুবিয়ে সমাজের প্লেটে পরিবেশন করুন। লোকে চেটে পুটে নেবে। অফিস টাইমে যাওয়ার সময় লেডিজ বনাম জেণ্টস, অফিসে গিয়ে ভারত বনাম পাক, আড্ডায় গিয়ে তৃণমূল বনাম সিপিয়েম, রাতে ফিরে হিন্দু বনাম মুসলিম। আর সারাদিনে লজেন্স চোষার মতন ওবিসি তো আছেই। সর্বক্ষন অ্যান্টি-জাত খুঁজে চলেছি আর নিজের মনের ঘেন্না গুলোকে ঠুকে দিচ্ছি। তবু আমরা সহিষ্ণু। যতই ওয়াক থু মারি অথবা হিসি দিয়ে ধুইয়ে দিই না কেন, শুধু দিনান্তে তদুপরি লেপে দেবো মহত্ত্বের ম্যানিফেস্টো। কি করলাম, ঠিক না ভুল তার দায় যখন নিতে হচ্ছে না তখন নে না কিবোর্ড কে টেনে। থুক ঠাস ঠপাং ঠপাং করে লিখে ফেল মনের যত রাগের সফট সমীকরন।
               গ্রামের গরিব আওয়াজ তুললেই মাও    
আর
             শহুরে মুসলিম আওয়াজ তুললেই টেররিষ্ট বলে ঠেঙ্গাও।
কোনও কোথা হবে না বাপু। দেশপ্রেম বলি কথা। সুযোগ কি আর রোজ আসে। রাগ অভিমান কুলুকুচির এই তো উপযুক্ত সময়। এতো অন্যায় নয়। এ দেশপ্রেম দেখানোর তাগিদ।  ঘর্মাক্ত বগলের তলায় ডিওর এক্তিভিটির মতন এদের ঠিক করার দায়িত্বও আমার আছে। নাহলে কল্কি অবতারের প্রক্সি, কে দেবে শুনি?


বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৫

রোজনামচা

ছেলেবেলা থেকেই আমি রোগা ঠিক অনেকটা ইংরেজি আই এর মতন। রাজ্য সরকারের ডিএ এর মতো প্রতিদিন আশায় থাকি আজ একটু হয়তো মোটা হলাম কিন্তু ঐ যে সবার ওপরে আয়না সত্য তাহার ওপরে নাই। দিন দিন সেই একই পাঁজরে একই মাংস সম্বল করে ট্রেনে নিত্য সহযাত্রীর বগলদাবা। তাহার পরে সুপারসহিষ্ণু পীঠে সহযাত্রীর নির্মম কোঁতকা। অবশেষে ট্রেনে উঠলাম। যদিও উঠলাম বলা ভুল কারা যেন তুলে দিল আমায়। উঠেই অদ্ভুত কেস খেলুম। সামনে একদল লোক যারা ট্রেনে তুমুল ভিড় দেখতে পাচ্ছে আর আমার পিছনে গোটা পঞ্চাশ লোক যারা সর্বদা ট্রেন কে ফাঁকা দেখছে। আমি মাঝে টাগ অফ ওয়্যার এর দড়ি। ট্রেন ছাড়ল। আমার থ্যাবড়া পদচিহ্ন মোটামুটি লেপে দিচ্ছি দমদম টু বিরাটি। ঠেলা গুঁতো খানিক সওয়ার পর সচিন সৌরভরা ফর্ম খুললেন। “বাবা ব্যাগ হাতে নাও। দরজায় দাড়িও না। উত্তরে মুখ করে দাড়াও।” –ট্রেনে ওঠা থেকে নামা অবধি বিস্তর টোটকা। কেউ বছরে ৩৬০দিন ট্রেনে যান আবার কেউ ২৭৮ বার। আগে ট্রেন কম ছিল। স্টেশনে আলো জল পাখা সিট ছিল না সহ ভারতীয় রেলের স্প্যশালি বনগাঁ লাইনের দুঃসাহসিক সব অভিজ্ঞতা। শুনতে শুনতে লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে গেলো। কেন যে সরকার অবুঝের মতো এতো সুবিধা করে দিল। দরজার কাছে এগিয়ে এলুম। মনে বল এনে এক কাকু কে বলে বসলাম, “দরজায় দাড়িয়ে ঠাণ্ডা হাওয়া খেলে তো...  ” প্রত্যুত্তর এলো, “তুমি বুঝবে না বাছা। ফ্রেস ও-টু নিচ্ছি...” নিউমোনিয়া যে তোমাকে নিচ্ছে পিছে সে জানাতে আর ইচ্ছে হলো না। ওদিকে পেটের কোনাটা টনটন করছে। বেড়ানোর সময় প্রচুর জল খেয়ে বেরিয়েছিলাম। কিডনির প্রসেসিং টাইম এতো কম কে জানত! বিশড়পাড়া ঢুকছে। মস্তিস্কে বাড়ি ফেরার পথের অন্ধকার গলি, ল্যাম্পপোস্ট এর ব্লু-প্রিন্ট আওড়াচ্ছি। কিডনি ফরম্যাট করতে হবে যে...

ব্লগ ব্লগানির পীঠস্থান 

কপিরাইট deyayan.blogspot.in

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৫

সত্যি... মা কালীর দিব্যি!

নিজের মায়ের পরে মাসিমা...  কেস জন্ডিস হলে কালী মা। আর কেস ভরপেট খেলেই কালীমা।

শুধুমাত্র একটা ইসস-স্পেসের অভাব। দ্বিতীয় টা খুব স্পেশ্যাল। মিথ্যে হোক বা সত্যি। কেসের কোয়ালিটি যতই গভীর হোক না কেন, তোমার বিপরীত বিশ্বাস না করলেই , “সত্যি... মা কালীর দিব্যি!” ডায়নামিক জীবনে ভার্চুয়াল গীতা। এক কথায় মিথ্যে হরন। তবে যাই হোক, এই যে উঠতে বসতে জিব কাটছি সবই তো তাহারই রেফারেন্স। 

মহাদেব হলি বলত; আহা মম প্রানেশ্বরী... এসো (মম জীবনে) সুখ শান্তি এমপ্লয় করি।