প্রেক্ষ্যাপটঃ
আমীর খানের বক্তব্যে অসহিষ্ণুতা
ভীষণ রাগ হচ্ছে... ভীষণ। সব্বাইকে গাল দিতে ইচ্ছে
করছে... যতসব হোমো সেপিয়েন্সের বাচ্চা। তদুপরি ফেসবুক। কথায় আছে না, অধিক
সন্ন্যাসী তে গাজন নষ্ট। সুযোগ তুমি পেয়েছ তো কি খিস্তির বালতি উপুত করেছ। আমীর
খান কি বলেছেন কি বলেননি জানিনে, সত্যি বলতে জানার ইচ্ছেও নেই। তবে ভারত সহিষ্ণু
দেশ কিনা এব্যাপারে আমারও সন্দেহ হতে শুরু করেছে। হ্যাঁ তবে অন্যান্য সকল দেশের
থেকে অনেকটা সহিষ্ণু হয়ত। একজন দেশের নামে কি কহিল তা বিশদে জানার আগেই যেভাবে ভারতবাসী
তার বস্ত্রহরনে নেমে পরিল তা অভুতপুর্ব। যেখানে আমরা নিজেরাই একজন লোকের কোথায়
নিজের সহিষ্ণুতার প্রমানে অপারগ সেখানে দেশ কিভাবে সহিষ্ণু হইবে। আসলে সহিষ্ণুতা
এক গাল ভরা শব্দ। বলতে হেব্বি মজা। অনেকটা টিক মার্ক ওয়ালা কোয়েশ্নের মতন। টিক
মারলেই হল। প্রমান করতে হয়না। আর এদিকে ডিগ্রীর ঝাঁ চকচকে মোড়কে যে রেটে জনগন কুশিক্ষ্যা
বিলোচ্ছে তাতে স্বয়ং বিষ্ণুর দিব্যি, সহিষ্ণুতা ধর্মের ষাঁড় রুপে আত্মপ্রকাশ করতে
চলেছে। আসলে জীবন মানে জি বাংলা নয়। বাস্তবিক জীবন বড়ই পানসে। মিডিয়ার সজাগ চোখ
হতে বাচতে মধ্যবিত্ত সমাজ কতদিন গণধোলাই এর গেমে পার্টিসিপেট করেনি। ঠাটিয়ে চড়...
উহু তাও না। সাহস নেই, আবার খ্যামতাও নেই। মনের জ্বালা, রাগ অভিমানের হরমোন গুলো
শুধু শুধু পচছে। ইউজ না করিলে জাস্টিস হলো নি বাপু। সো আমরা রাগ দেখাব। সুযোগ
পেলেই লাথাব। বলে মারিলে গোষ্ঠ পাল... অসহিষ্ণুতায় আস্ত ... ! (না
সব জায়গায় ছন্দ মেলানোর তাগিদ নেই আমার) তবে দেশ নিয়ে কোনও কথা হবে না বস।
এরপর মুসলিম হলে তো কথাই নেই। প্রেম চোপরা আরে মুসলিম
দের মধ্যে হেভি মিল। এই দুই জনের ভিলনত্ত্ব সমাজে স্বতসিদ্ধ্। তুমি দোষী... এ
পর্যন্ত ঠিকঠাক। আবার মুসলিম ও। তালে ওরা তো অমন করেই থাকে। নন স্ট্যান্ডার্ড। এ
ট্রেনিং তো সমাজ ছেলেবেলা থেকেই দিয়ে এসেছে। সুযোগ পেলেই জাত তুলে বিজাতের প্রতি
ক্ষেদ। না এ অন্যায় নয়। শুধুমাত্র এহেন বিদ্বেষ কে নীতি আদর্শের রসে চুবিয়ে সমাজের
প্লেটে পরিবেশন করুন। লোকে চেটে পুটে নেবে। অফিস টাইমে যাওয়ার সময় লেডিজ বনাম জেণ্টস,
অফিসে গিয়ে ভারত বনাম পাক, আড্ডায় গিয়ে তৃণমূল বনাম সিপিয়েম, রাতে ফিরে হিন্দু
বনাম মুসলিম। আর সারাদিনে লজেন্স চোষার মতন ওবিসি তো আছেই। সর্বক্ষন অ্যান্টি-জাত
খুঁজে চলেছি আর নিজের মনের ঘেন্না গুলোকে ঠুকে দিচ্ছি। তবু আমরা সহিষ্ণু। যতই ওয়াক
থু মারি অথবা হিসি দিয়ে ধুইয়ে দিই না কেন, শুধু দিনান্তে তদুপরি লেপে দেবো মহত্ত্বের
ম্যানিফেস্টো। কি করলাম, ঠিক না ভুল তার দায় যখন নিতে হচ্ছে না তখন নে না কিবোর্ড
কে টেনে। থুক ঠাস ঠপাং ঠপাং করে লিখে ফেল মনের যত রাগের সফট সমীকরন।
গ্রামের
গরিব আওয়াজ তুললেই মাও
আর
শহুরে মুসলিম আওয়াজ তুললেই টেররিষ্ট বলে
ঠেঙ্গাও।
কোনও কোথা হবে না বাপু। দেশপ্রেম বলি কথা। সুযোগ কি আর
রোজ আসে। রাগ অভিমান কুলুকুচির এই তো উপযুক্ত সময়। এতো অন্যায় নয়। এ দেশপ্রেম
দেখানোর তাগিদ। ঘর্মাক্ত বগলের তলায় ডিওর
এক্তিভিটির মতন এদের ঠিক করার দায়িত্বও আমার আছে। নাহলে কল্কি অবতারের প্রক্সি, কে
দেবে শুনি?