বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৫

রোজনামচা

ছেলেবেলা থেকেই আমি রোগা ঠিক অনেকটা ইংরেজি আই এর মতন। রাজ্য সরকারের ডিএ এর মতো প্রতিদিন আশায় থাকি আজ একটু হয়তো মোটা হলাম কিন্তু ঐ যে সবার ওপরে আয়না সত্য তাহার ওপরে নাই। দিন দিন সেই একই পাঁজরে একই মাংস সম্বল করে ট্রেনে নিত্য সহযাত্রীর বগলদাবা। তাহার পরে সুপারসহিষ্ণু পীঠে সহযাত্রীর নির্মম কোঁতকা। অবশেষে ট্রেনে উঠলাম। যদিও উঠলাম বলা ভুল কারা যেন তুলে দিল আমায়। উঠেই অদ্ভুত কেস খেলুম। সামনে একদল লোক যারা ট্রেনে তুমুল ভিড় দেখতে পাচ্ছে আর আমার পিছনে গোটা পঞ্চাশ লোক যারা সর্বদা ট্রেন কে ফাঁকা দেখছে। আমি মাঝে টাগ অফ ওয়্যার এর দড়ি। ট্রেন ছাড়ল। আমার থ্যাবড়া পদচিহ্ন মোটামুটি লেপে দিচ্ছি দমদম টু বিরাটি। ঠেলা গুঁতো খানিক সওয়ার পর সচিন সৌরভরা ফর্ম খুললেন। “বাবা ব্যাগ হাতে নাও। দরজায় দাড়িও না। উত্তরে মুখ করে দাড়াও।” –ট্রেনে ওঠা থেকে নামা অবধি বিস্তর টোটকা। কেউ বছরে ৩৬০দিন ট্রেনে যান আবার কেউ ২৭৮ বার। আগে ট্রেন কম ছিল। স্টেশনে আলো জল পাখা সিট ছিল না সহ ভারতীয় রেলের স্প্যশালি বনগাঁ লাইনের দুঃসাহসিক সব অভিজ্ঞতা। শুনতে শুনতে লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে গেলো। কেন যে সরকার অবুঝের মতো এতো সুবিধা করে দিল। দরজার কাছে এগিয়ে এলুম। মনে বল এনে এক কাকু কে বলে বসলাম, “দরজায় দাড়িয়ে ঠাণ্ডা হাওয়া খেলে তো...  ” প্রত্যুত্তর এলো, “তুমি বুঝবে না বাছা। ফ্রেস ও-টু নিচ্ছি...” নিউমোনিয়া যে তোমাকে নিচ্ছে পিছে সে জানাতে আর ইচ্ছে হলো না। ওদিকে পেটের কোনাটা টনটন করছে। বেড়ানোর সময় প্রচুর জল খেয়ে বেরিয়েছিলাম। কিডনির প্রসেসিং টাইম এতো কম কে জানত! বিশড়পাড়া ঢুকছে। মস্তিস্কে বাড়ি ফেরার পথের অন্ধকার গলি, ল্যাম্পপোস্ট এর ব্লু-প্রিন্ট আওড়াচ্ছি। কিডনি ফরম্যাট করতে হবে যে...

ব্লগ ব্লগানির পীঠস্থান 

কপিরাইট deyayan.blogspot.in

কোন মন্তব্য নেই: