বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

যাজ্ঞে যাক… দুগগা থাক

দুগগা পুজো আসছে। বাঙ্গালীর সর্ববৃহৎ মোচ্ছব। আর যত এগুচ্ছে তত ভয় কচ্ছে। সত্যি বলতে সেই এক পুরানো বডি কে নতুন নতুন জামা জুতো পরিয়ে সপ্তমী টু নবমী ভাসিয়ে দাও পার্বনের চড়া স্রোতে... কি বিপদ। যেহেতু ছেলেবেলায় রচনায় লিখেছ এটাই বাঙ্গালীর সেরা পার্বন অতএব রাগ অভিমান পকেটে গুজে বেরিয়ে পড়। উঁচু দাঁত কে ঠোঁট দিয়ে চেপে রাখার মতন মনে জমে থাকা ছিঁচকে ব্যার্থতাবোধ কে ঢেকে রাখতে হবে এ সময়। সমাজের অলিখিত ফরমান। তুমি যতই চাওনা কেন, পাবলিক-ই তোমার নিতম্বে একটা আদুরে টোনা মেরে জপাৎ করে ফেলবে আনন্দেরই অমৃতপুলে। অতএব সহজ কথায় বগলে সুগন্ধি স্প্রে করে বেরিয়ে পর বজ্জাত জুতোর ভিড়ে।

উফফ কি সাঙ্ঘাতিক। ভীষণ ল্যাদারু আমি, অনেকটা নর্দমার পাশে পরে থাকা ভেজা প্লাস্টিকের মত খাটে পরে থাকি পুজোর সকাল গুলোয়। আর রাতে বেরতেই ধাক্কা! এত পাবলিক ছিলো কোথায় ? কাতারে কাতারে লোক উৎসবের জোয়ারে ড্রাইভ মারছে, পা মাড়াচ্ছে, থুতু ফেলছে, পায়ে দামড়া ফোসকা নিয়ে খোঁড়াচ্ছে আর একের পর এক প্যান্ডেলের লাইনে দাড়িয়ে পরছে। ফুচকার দোকানে রেশনের মতো লাইন। হাউহাউ করে ফুচকা খাচ্ছে সব। বাচ্চা গুলোর ভেপু আর ফটাস ফটাস ক্যাপ ফাটানোর শব্দে প্রান ওষ্ঠাগত। বন্ধু দের কানে ব্যাপারটা তুলতেই বাছা বাছা ২-৪ অক্ষর ধেয়ে এল। তুমি কে হে হরিদাসের নাতি? নেগেটিভ চশমায় দুনিয়া মাপিছ। আরে বেরিয়েছ যখন আনন্দ টা চেটেপুটে খাও। বলতে বলতে প্যান্ডেলের লাইনে দাঁড়ানো গেল। পিছনে পাল পাল লোক। সামনের লোকের ঘামের গন্ধ শুকতে শুকতে এগিয়ে চললুম। মাঝে মাঝে পাঁজরায় সহযাত্রীর কনুই এর গুতো আর সুপারসহিস্নু নিতম্ব বাঁশের রেলিং এ ঠেকিয়ে বসে থাকা। হটাত বাঁশের ধার ঘেঁষে, নারিকেল দড়ির তলা বেয়ে, পিছনের লোকের দাঁত খিঁচুনি শুনতে শুনতে এগিয়ে চললুম। পুজোর লাইনে দাড়িয়েছ কি মরেছো। প্রেম আর পুজোর লাইন অনেকটা সিপিয়েমের মতন। একবার ঢুকলে মাথা না নুড়িয়ে বেরতে পারবেন না। বলতে বলতে পিছনের লোক আর পঞ্চাশ পা এগিয়ে দিলে। উফ দিব্বি ছিলুম কোলবালিশ ঠেসে শুয়ে। পাটু খুলে গেল হাটতে হাটতে। নিতম্বের ভার আর নেওয়া যাচ্ছে না। এবার একটু দুর্গার কোলে বসে রেস্ট নেব ভাবছি। হটাত দেখি বিশাল একটা আখের ছিবড়ের স্তুপ। ওটাই নাকি প্যান্ডেল। অদিকে বোঝার আগেই আমার দুই কাঁধ, মাথা, বগোল এমনকি দুই পায়ের ফাঁক দিয়েও লোকে ক্যামেরা গুজে দিয়েছে ফটো তুলবে বলে। আচমকাই ক্যামেরা স্টান্ড হয়ে রইলুম।

রাস্তায় পিলপিল করছে লোক। কোথাও আবার মেলাও বসেছে। ন্যাপি পরা বাচ্চা বেলুন বেলুন করে হাপুস নয়নে কেদে ভাসাচ্ছে। চ্যাংরা ছেলের বেলুনে তাক করা বন্দুক মারতেই ভিড় থেকে বাঘের বাচ্চা উপাধি প্রাপ্তি। প্রবল গনতান্ত্রিক ভাতৃত্ববোধে অচেনা লোকের জামায় মুছে দিচ্ছে রোলের সস। ভিড়ে নড়ার যায়গা নেই। প্যান্ডেল গুলোতে তো আবার থিমের হাওয়া লেগেছে। যে যা হাতের নাগালে পাচ্ছে প্যান্ডেলে নতুন ভাবনা বলে জুড়ে দিচ্ছে। ঘাসের প্যান্ডেল হলে গরুদের জন্যে ১৪৪ ধারা জারি। আখের ছিবরে, গাজার কল্কে, লেড়ি বিস্কুট থেকে সিমেণ্টের দুগগা। ইয়া বড় বড় ঢাউস ঢাউস চোখ, থেবরা নাক অনেকটা যামিনী রায়ের ১৩৩ গুন বড় ফটোকপি।


অদিকে ফচকে ছেলেদের তো অলিম্পিক... তিন দিনে তেত্রিশো মেয়ে দর্শন আর সুযোগ পেলেই “আড্যাম টিজিং”। বাগবাজারের চম্পা থেকে সল্টলেকের ঝিঙ্কু মামনি। দিল টু দিলের কথপকথন। “এ কি যুগ দিলে মা? ... শেষমেষ দিল নিয়ে দ্বিলেমা!” সঙ্গে কিছু সস্তা খেউর। এসব দেখতে দেখতে, কোনোমতে আলগোছে ঠাকুর কে পেন্নাম ঠুকে শেষে প্যান্ডেল থেকে বেরোলুম। হাটতে হাটতে মালাইচাকি ঢোল। বিশাল সব স্টল সামনে। পেটের ধাতানিতে এগরোলের স্টলের দিকে গেলুম। চিবুতে চিবুতে সামনে এগোলাম। স্টেজে ফাংশান হচ্চে। দামড়া মেয়েরা বেবি ডল নাচতে গিয়ে অনেকের হৃদয় মালটিকালার করে দিচ্ছে। এর মধ্যে কার আবার পকেট মেরে দিয়েছে। এত পকেটমারদের-ই সিজেন মশাই। ডাকাতের যেমন কালী তেমনই এদের দুর্গা। লিগ তমাগো তো শিল্ড আমাগো। আর দুপা গেলুম। টুনীর আলো গুলো ফিকে হয়ে আসছে। রাত অনেক হল। এবারে বাড়ি গেলাম। টাটা।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

নেতিয়ে পরেছি নেটে



“প্রথমেই বলে রাখি এ লেখা অধিকাংশ বাঙ্গালীর জন্যে যারা হুজুক কে নিজের বউ বাচ্চা মা বাবা ভাই বোনের থেকেও বেশি ভালবাসে। আপনি মহান তাই আপনি বাদ।”

“ওরে সাম্বা, শোন তরেই বলি। কব হে রে হোলি ? “
আপামর বাঙ্গালীর হিন্দির মা মাসি এক করার প্রবনতার থেকেও বড় বিপদ হল হুজুগযে দেশের স্বাধীনতার দিন সকালে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠতে হয় মাংসের দোকানে বেশী লাইন পরবে বলে সেই দেশে আমি আপনি রাতারাতি দেশ উল্টে দেব এ আশা বৃথা। মোদের সহানুভুতি বলিতে মোমবাতি, বাংলা মিডিয়াম বললে ক্যালানে, চেনা গণ্ডির বিরুদ্দে হাটলেই গট আপ। আপনি ফুসফুস ভর্তি ইতিবাচকতায় তাজা শিক্ষার অক্সিজেন নিয়ে বসে বসে ভাবছেন একটা সুযোগ পাই দেশ উল্টে দেব। একগাল ভর্তি পানের পিক নিয়ে সচ্ছ ভারতের সমালোচনা করা আপনার কাজ নয়। আমরা বাঙ্গালী। সহজে বাস্তব মেনে নেব না, কিন্তু হুজুগ কে বুকে জড়িয়ে নেব। কেন? কারন হুজুগে মন্তব্যে, যুক্তির আন্টিবায়টিক নাই তথা সহজলভ্য এবং কানের জন্য পুষ্টিকর। কে বা কারা বাঙ্গালীর অলীক সুখে হাল্কা কার্বাইড স্প্রে করে দিলো তো হয়েছে... এবার নিতম্ব আস্ফালন দেখলে পিত্তির ১০৪ ডিগ্রিতার মধ্যে,
 ট্রেনে বাসে গুজব রটে... পেপার পরে হালুম
                   শুনতা হে, নেট পায়েগা ফ্রী ম্যে  ...
                                       এ ক্যাইসে হোগা, মালুম?
মোদী সিলিকন ভ্যালি তে গিয়ে ফ্রি ইন্টারনেট দেবে ঠিক করার সাথে সাথে জুকারবার্গ আমার আপনার মুখে দেশজ রঙ মানে ইয়ে গেরুয়া WHITE SPACE সবুজ মাখিয়ে ছারলে( অবশ্য চুন কালি নয় ভাগ্যি)। বাঙালী কি আপ্লুত। অকাল হোলী... ওরে নেট এত দিনে তুই আমার হোলি। তবে এই ভালবাসার নায়িকা অবশ্যই মমতা পিসি। পার্কস্ট্রীট কে যিনি একধারে রেপ ও নেটের জন্য বিখ্যাত করেছেন। উনি লোকালি ভেবেছেন আর মোদী গ্লোবালী – সত্যি বলছি, মা কালীতবে বাঙ্গালীর এই নেট প্রীতির কারন কি? কারন এতে অতি সহজে আপনি পৃথিবীর চুলের মুঠি ধরতে পারবেন, লোকজন কে অবাধে নিজের চোঁয়া ঢেঁকুর তো আমাশার ডেইলি আপডেট দিতে পারবেন। আর বাড়িতে যদি থাকে, নেকু মামনি বা কন্যা... তাহলে তো কথাই নেই। গুচ্ছের লাইক আর কমেন্টের বন্যা।
আমি অবশ্য ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সাপোর্ট করব! না করব না!  সারাদিন চুলের ডগায় আচুলি বিচুলি কেটেও ঠিক বুঝতে পারিনি। তাই ত্রিরঙ্গে রঙ্গিন হতে পারিনি। আমার কাছে নেট পরিষেবা ফ্রী হবে কি না হবে তার থেকেও অনেক বড় সমস্যা বিদ্যমান।
তবে যে দেশে চাষীর বাড়িতে চালের বদলে বিষের আগমন হয় সেখানে ইন্টারনেট সমবেদনা জানানোর জন্যে খুব হয়ত ইম্পরট্যান্ট! খিদের পেটে বড়জোর একটা লাইক দেওয়া যেতে পারে তবে কমেণ্ট নয় অতএব... ... ...
(বুদ্ধিমান লোকের ইশারাই নাকি কাফি... চলুন তো আজ টেস্ট করিয়া দেখি)

অতএব, দাদা কি বুইলেন?  ইন্টারনেট আপনাকে স্মার্ট করে বটে তবে “আমি তো এমনি এমনি খাই” - এর মতন নেট করি নয় এটা। প্রসেঞ্জিত যেমন পেটের ভাত বিরিয়ানির তফাত সেখায় ঠিক তেমনই স্লোগান হওয়া উচিৎ,
“ভরিলে পেট করিব নেট... বুক চিরিলে মোদী...
 অন্ন দুবেলা না জুটিলে ... ছাড়িয়া দিয়ো গদি
আমার পেটে, ভাত ও জোটে... তাই তেরঙ্গা হয় ডিপি
পুর্নিমার চাঁদ, যেন লাগে আজ...   বিষ বোতলের ছিপি
খুদার রাজ্যে পৃথিবী কাঁদছে... নেট ফ্রী তে দেয় নম (NAMO)

বাঙালী হৃদয় বিকশিত হোক... (এই) পার্থনা করি মম” 

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

চল ঢিল মারি , ছেলেবেলায়

বেশ কয়েক বছর ধরে খুব ছেলেবেলা কে মিস করছি। কাল ছেলেবেলার বন্ধু দের সাথে একসাথে আড্ডা মারার পর থেকে তো সেটা আবার চাগার দিল। তখন আমাদের বাড়িতে টিভি ছিল না। অমন একটা বাক্সে যে আমার মতো লোক দেখতে পাওয়া যায় তা তো কল্পনার অতীত। পাড়াতে পার্থ দার বাড়িতে টিভি ছিল। দল বেঁধে সেখানে যেতুম। শচীন চার ছয় মারলে তো উল্লাসে পারাময়। আউট হোলে ভাই চ্যা ভ্যা করে কেদে ফেলত। বুলু কাকার আবার অপার সন্দেহ। নিশ্চয় গটআপ। এরপর বাড়িতে একদিন টিভি এল। দুপুরবেলা ঢুলু ঢুলু চোখে ২০ টা গড়ের অঙ্ক করলে তবে শনিবারের বিকালে সিনেমা দেখার অনুমতি পেতুম। আমার পিসি আবার খুব ইমশনাল। সন্ধ্যা রায়ের চোখের এক ফোঁটা জল কে কুড়ি দিয়ে মালটিপ্লাই করে পিসি চোখের জল ফেলত। সে কি কান্না।
পাড়ার-ই এক স্কুলে পরতুম। স্কুলে যাওয়ার পথে পদ কাকার দোকানের জোকার বিস্কুট আর বাপুজি কেক ছিল আমার ফেভারিট। অঙ্ক পারলে পরের দিন জোকার বিস্কুট জুটত। প্রত্যেক রবিবার সকালে শক্তিমান আর রাতে বাংলা সিনেমার গান হত। “এ আমার গুরুদক্ষিনা” বাজলে তো কথাই নেই। আমার ফেভারিট গান। প্রতিবার দোলের সময় কুকুর বিড়াল আর গরু কে রঙ মাখতাম। একবার সাহস করে পাড়ার এক দাদু কে রঙ মাখাতে গিয়ে কি চিত্তির। উল্টে আমাকে ধরেই এক থাবা বাদুরে রঙ চুলের ভিতে ঢেলে দিল। মানুষের প্রতি বিশ্বাস সেদিন থেকেই নেই। পাজামার দড়ি ধরে অভিশাপ দিলাম। যদিও সেটা ফলে নি। কায়স্থের অভিশাপ বলেই বোধ হয়। তবে রবিবার পাড়ার মাঠে শক্ত ডিউস কর্কেটে খেলা হত। মাঠের ধারে দাড়িয়ে খেলায় লোক কম হওয়ার শাপ দিতাম। এটা মোটামুটি ফলে গেলে তবেই খেলার সুযোগ মিলত। ব্যাটিং করার একদিন সুযোগ পেয়েছিলাম। কর্কেট বল যে এত শক্ত তা কে জানত!
স্কুলে আমাদের সাথে শঙ্কর পড়ত। ব্রাহ্মন সন্তান। কিছু বললেই দু-আঙ্গুলে পৈতে পেঁচিয়ে শাপ দিতো। সেদিন একপাতা সচিনের জলছবি কিনে সবে মাত্র ব্যাগে রেখেছি। ব্যাটা এসে বলে ব্যাগে কি রেখেছিস বের কর। জোর করে কেড়ে নিয়ে পেনের পিছন ঘসে আমার চোখের সামনে জলছবি গুলো নিজের খাতায় সেটে দিল মাইরি। মনের কষ্ট গুলো চোঁয়া ঢেঁকুরের মতো চোখের কনে জমতে লাগল। আরেকদিন পঞ্চাশ পয়সায় কেনা দাঁতের লড়াই বেমালুম ঝেপে দিল। তখন খিস্তি জানতুম না। মনের রাগ মেটাতে হলে রাস্তায় পরে থাকা খালি বোতলে কনসেন্সট্রেট করতাম। সপাটে এক লাথি। বিরাটির রাস্তার পাসে খালে টুপুত করে জলে। নিজেকে পেলে মনে হত। অফ পিরিয়ডে পেনের লড়াই খেলতাম। মোটা থ্যাবড়া বদখদ কালির একটা পেন ছিল। টিপ করে মারলে সেটা খোলা টেবিলের মাথায় এক বুক চিতিয়ে দাড়িয়ে থাকত।

রাতে খুব কারেন্ট যেতো। কারেন্ট গেলেই পড়াশুনা লাটে তুলে মোমবাতির আলোয় হরিন বানাতাম। সুযোগ পেলে মাঠে মাদুর পেতে চাদের আলোয় হৈচৈ। তখন সম্পদ বলতে সাদা পেন্সিল বক্সের টুকটুকে কমলা বা লাল কালারের সেন্টেড রবার। কি তার মহিমা। ছোটো কাকা কিনে দিয়েছিল। রোজ ঘুমোতে যাবার আগে নাকের ডগায় রেখে শুতাম। কি মিস্টি একটা গন্ধ। গলার কাছ টা কেমন যেন বুজে আসছে। প্রতিবার লিখতে গেলেই গলা টা অমন করে। যাজ্ঞে !

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কোচিং এর কচ-কচানী

যখন খুব কচি ছিলাম তখন কোচিং ক্লাসের একটি মেয়ে কে বেশ ভাল লাগত। সে অনেক কাল আগের কথা।  তখন প্রেমের বানান জানতুম না। তাই বলা হয়নি। নিদেন পক্ষে হেঁচকি উঠেও সেদিন প্রপোজ করিতে পারিনি। যতবার ভেবেছি আর নয় এবার তোকে বলেই দেব, ততবার দাঁতের টাকরায় কথা গুলো চুইংগামের মতন লেপটে থাকে। বন্ধুরা খিস্তি মারিত। বাছা বাছা ২-৪ অক্ষর। কিন্তু ভালোলাগে এটা বলা যে এত চাপ জানতুম না। আমি তো জানতুম জীবনে যা ভাললাগে তা গলা উচিয়ে জানান দিতে হয়। মনে অদিকে প্রেম দিবারাত্র কুলকুচি করে চলেছে। তবু বলতে পারছি না। চোখে চোখ রেখে তাকাতেও পারছি না। কি জ্বালা। প্রেম চুইয়ে পরে হৃদয়ের পিত্তি গেলে গেছে। সে জ্বালায় জ্বলছি আর সে ক্ষতে বন্ধুরা নুন স্প্রে করিছে। বলিল লাভ লেটার লেখ। আমার হাতের চিঠি মানে তো বাংলা ভাষা শহিদ। তখন আমার মোবাইল ছিল না। মেঘনাদের মতন আড়াল থেকে লুকিয়ে এসএমএস করিব সে রাস্তাও বন্ধ।

রোজ তার জন্য কোচিং ক্লাস টা যেতুম। বাংলা সাহিত্যের চর্যাপদ এর মতন বদখদ বস্তু ব্যাজার মুখ করে শুনতে হত। ক্লাস শেষে ‘ও’ যেই বলল; “তুই আমার বাড়ির পাশ দিয়ে যাবি ? ” তখন তো আমার মনে “ইয়ে মেরা দিল প্যার কা দিওয়ানা”। একসাথে হাটছি। মাথা নিচু, পা থর থর করে কাঁপছে। টেনশনে হিসু পেয়ে যায়। কি কাণ্ড। ঘড়ির কাটা টা বড্ড তাড়া দেখাচ্চে আজ। একটু মিনিমাম সেন্স ও নেই। হটাত বলে উঠল তুই তো ভাল কাটুন আঁকিস আমায় একটা একে দিস তো। ওর বাড়ি ক্রস করে একটা অন্ধকার ল্যাম্প পোস্টে প্যারাবোলা মেপে হিসু করলামএতক্ষণে টেনশন কে বিসর্জন দিলুম। উফফ।

শুনেছি মেয়েরা ছেলেদের মুখ দেখলে সব বোঝে। ও বুঝত কিনা জানিনে তবে আমার পাশে বসতো। আমার মনে তো তখন গান্ডিবের ঝিনচ্যাক। এরপর যেদিন টিচার্স ডে তে ফোন করে কখন আসব জানতে চাইল সেদিন তো দাঁত টু আলজিহ্বা কে শিখিয়ে পরিয়ে নিলুম কিভাবে তারা ভালবাসার জানান দিবে চোখের ইশারা পেলে। এর পর মহার্ঘ সেই দিন। কিন্তু আমার জিব টেনশনে পরলে যে লালায় হরকায় তা জানতুম নে।

তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। ঝলসানো চিকেন তন্দুরী তে কনসেন্ট্রেশন দিয়ে তোর বিয়ের নিমত্রন টা উতরালাম। ওকৎ করে যাবতীয় স্মৃতির সিফট ডিলিট। জিভ এখন অনেক পরিনত। এখন সে স্পষ্ট করে ভাললাগার জানান দিতে পারে। 

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

খিস্তি-র ফিরিস্তি

খিস্তি বা গাল অনেকটাই সমার্থক। গুনীজনে বলেন মানসিক রাগ ও শারীরিক অক্ষমতা র দুই ছেলে; বড় ছেলে খিস্তি আর ছোট ছেলে গাল। এই দুজনে গ্রাম হতে মফস্বল, ধনী হতে গরিব, আপামর পৃথিবীতে কেমন গনতন্ত্র  বজায় রেখেছে তা আর বলার জায়গা রাখে না। শক্তির যেমন রুপান্তর হয় তেমনি এদের ও। কেমন গুটি কয়েক শব্দ প্রয়োগ কত সহজে আপনার মনের সমস্ত রাগ ইয়ে করে দেবে। যেমন রন পা পরেছে বামন ঠিক তেমনই রাগের খিস্তির প্রতি প্রলোভন। আপনি যাবেন কথায় মশাই! বরঞ্চ এই গালের সাগরে তাপস পাল হয়ে যান। আপনার অমন নিটোল গাল বেয়ে ঝরে পরুক সে। দেখবেন কি আমেজ। কি অমোঘ শান্তি। বিপক্ষের চুপসে যাওয়া প্রেস্টিজে ঠুসে দিন আপনার বদরাগ। রাগ চেপে রাখলেই ডিপ্রেশনের চড়া স্রোত আপানার সবকটি ইন্দ্রিয় কে স্পর্শ করে গলার ঠিক ডগায় বুজবুজিয়ে উঠবে। নরম তরম পাবলিক হলে তো কথাই নেই। গুটি কয়েক দমকল চোখের ঠিক ডগায় এসে হাজির। এসব ছেড়ে তেরেফুরে দিন তো দেখি গোটা দুয়েক মা মাসি টেনে।
গালাগাল ও এক প্রকার হটজোগ। (বিয়োগও বলতে পারেন কারন রাগ বিয়োগ করে দেয়) যা আপনি অহরহ যথাতথা দিনে রাতে দিতে পারেন। এ আপনার মন ও শরীর দুইই ভাল রাখে। অনেকটা মদের মতন। আপনি জানেন এটা ক্ষতিকর কিন্তু তাও না দিলে রাগ কমে না। তাও উপকারী দিক টা ভাবুন। আপনার সমগ্র রাগের বহিঃপ্রকাশ করতে কত কথা দরকার তা না বলে দুষ্টু মিষ্টি দিলেন একটা ঝেড়ে। অনেকটা ছেলেবেলায় এক কথায় প্রকাশের মতন। উল্টে এক শব্দে বহু টাইপের রাগের প্রকাশ সম্ভব। এই বিশ্বায়নের যুগে এহেন টাইম সেভিং কি বা হতে পারে বলুন।

কি বললেন প্রেস্টিজ চলে যাবে। আরে মশাই প্রেস্টিজ সব ভাওতা। নস্টালজিক ছিঁচকাঁদুনী সব। আগেও লোকে গাল দিতো এখন দেয়। রামকৃষ্ণ কি তার শিষ্য দের গাল দেয়নি? ব্যাপার তা একই। শুধু কোয়ালিটি টাই বদলেছে এই যা। ঐ আগে লোকে হরতকি চুষত আর এখন জেলোসিল চোষে। সোজা কথা স্মার্টনেসের এই মোচ্ছবে পা মেলাতে হোলে আপনাকে বিপক্ষের ১৪ গুষ্ঠির সম্পর্কে নলেজ রাখা মাস্ট। 

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ঘুড়ি ওড়াবো মনে করিও, ওড়াতে গেলে আর ওড়ে না

ঘুড়ি আমার ছোটবেলার প্রেম। অবশ্যি প্রেম এখন আর নাই। টিউশনে একটি মেয়ে কে ভাল লাগিলে ও যেমন সর্বদা ভালবাসি বলা যায়না এ আমার সেই গোছের প্রেম। পরে শুনিলাম এখন সে বিশ্বকর্মার গার্ল ফ্রেন্ড। ফিগার টা তাহার খাসা। দিন দিন জেল্লাও বাড়িছে। রঙ্গিন কাগজে দুটো কাঠি তে দিব্যি কেমন লেপ্টে থাকে। তারপর সুতোয় বেঁধে উরিয়ে দিলে মাঝ আকাশে ধাঁ। যদিও আমার দ্বারা এ শিল্প কোনদিন মাঝ আকাশ তো দুরস্ত ল্যাম্প পোষ্টের কাধেও চরেনি। অতএব ঘুড়ি লাটাই তে বেঁধে টেনে উসেইন বোল্ট। তাতে অবশ্যি ঘুড়ি কিছুটা উড়ত। এরপর তুমি ওকে আকাশের দিকে যেমন খুসি ছুড়ে দাও তোমার অঙ্গুলিহেলনে আকাশে এদিক অদিক করবে আবার তুমি হাফিয়ে গেলে তোমার পাদপদ্মে এসে বিশ্রাম নেবে। কোনও অহঙ্কার বোধ নেই মশাই। কি অমোঘ ভালোবাসা। তাপস পালের পরে এহেন গুরুদক্ষিনা কে দিয়েছে ?

বিশ্বকর্মা পুজোর ঠিক প্রাক্কালে বিরাটি মোড়ের মাথায় রঙ্গিন সুতোর পসরা নিয়ে এক দাদু বসতো। তার ঘুড়ির সুতোয়-ই নাকি এমন ধার তা দিয়ে গালের দাড়ি কাঁটা যেতো। পাশের পাড়ার বল্টু ঘুড়ি ওড়ানোয় চোস্ত। সে বলে জামায় মাঞ্জা না থাকিলে যেমন প্রেম জোটে না তেমনি বল্টুর নিজের হাতের মাঙ্গা সুতোয় না পড়িলে ঘুড়ি কাটে না। অতএব মাংসের দোকানে গিয়ে পাঠার কান ধরে টানাটানি। মাতালের বোতলের শেষ বিন্দু পযন্ত ওয়েট করা। তারপর রঙ্গ, কাচের এক অদ্ভুত মিশ্রন সুতোয় লেপে সারাদিন মাঠে চক্কর। সে সুতোয় কি দেমাক। বল্টু একটা হিংস্র হাসি দিয়ে বলে কাল আসিস বাড়িতে। দেখিস আকাশে কেমন করে শুধু আমি উরে বেড়াই। ঘুড়ি দিনে গোটা কুড়ি ঘুড়ি না কাটতে পারলে নাকি তার নাক কাটা যাবে। অতএব সারাদিন লাটাই ধরে ওর পিছুপিছু বল্টুর বাড়ির ছাদে পরে থাকা আর কটা ঘুড়ি কাঁটা গেল তার হিসাব রাখা। আমি অবশ্য নাক কাটার হিসেব রাখতাম। অন্যের ঘুড়ি কাঁটা গেলেই কানে ভোঁ লাগিয়ে দিয়ে ভোঁ কাট্টা... সে এক অমোঘ আনন্দ। টিচার বন্ধুর খাতায় ক্রস কাটিলে যা আনন্দ হয় তার থেকেও ঢের বেশি। 

গঙ্গা জলের গঙ্গা প্রাপ্তি

চক্ষু বুঝে জল ছেটালে পুরোহিতের দল
শুনছি নাকি গঙ্গা জলে, সকাল এবং দ্বি-প্রহরে,
ঘাটের ধারে চুপি সারে , ভেসে বেড়ায় মল

দুর্গন্ধে নাক চাপা দায়,
চুলকানির ভয় নাহি যায়
বল প্রভু কিবা উপায়,  ... পবিত্রতা-র নামে

গঙ্গোত্রী যে মিনারেল ছাড়ে,
Non stop হিমালয়া-র ঘাড়ে,
তবু তাহার দুইটি পারে !!! ... ভেবেই কপাল ঘামে

সব-টা শুনে ব্রহ্মা বলে,
গঙ্গা জল কে ছেটালে ?
চুলকানি তে শরীর জ্বলে ... সেলিকল দাও প্রভু

এ বেদনা বলিব কিবা
গোড়ালি হতে কপাল, গ্রীবা

Quad core Hand থাকিতে-ও, শান্তি পাইনা তবু

প্রেমের রিয়ালাইজেশন

Abstract

ভেবেছিলুম মন দিওয়ানা উলুক সুলুক ফিলমে
তন্বী কোমর বন্দি নজর টোকা মাড়িল দিলমে
প্রেমে তখন হাবুডুবু জ্বলে উঠি তব জ্বেল্লায়
সোনার কেল্লা না পারিলেও রাখিব ইটের কেল্লায়
দিবা রাতি... উগ্রে স্মৃতি... ভালবাসা ওঠে চলকে
ভাবিতে পারো... মহাদেব ও... তুমি গাজার কল্কে
দম দিয়েছি বেদম প্রানে... ব্যাচেলর এর কান্নায়
রঙ স্বাদ সব ঠিক ই ছিল... নুন দিলে জাস্ট রান্নায়

Introduction

রাম নামে তে সাগর পেরোয় ভক্ত হনু মাঙ্কি [cite; রামায়ন]
নিঝুম রাতে…. হাম্পি চাইতে গাল দিয়েছে ডাঙ্কি
(বললে হেসে)
ঢং করনা, সং সেজো না, পেয়েছ যখন সস্তায়
আসল কথায় দিল্লি লাড়ু... খাক না খাক পস্তায় [cite; পরিস্থিতি]

Methodology & Output

বাস্তবে-রা অহংকারী, প্রেমের শর্ত শোনায়
আয় স্বপ্ন লঞ্চ করে যা ... ভাত আর কাটাপোনায়
চির ব্যাচেলর ঠিক খুজে পায় ভালবাসার গ্ল্যামার
কেন বাস্তব প্রেমের টাকে প্রেস করিছ হ্যামার
অতি লোভে হরকাবে মন...পিছলিয়ে পুরো চিত্তির
পুরানো অতীত ঘাঁটিতে নেমে ফিলিং ফেলু মিত্তির

Conclusion

দুস্টু মিস্টি করিয়া লিস্টি... জ্যোতিষে-র ফুস-মন্তরে

ঘুমিয়ে আছে মমতা পিসি সব মেয়ের-ই অন্তরে

ভয় তবুও আমার সয়

...পৃথিবীর যে সকল বস্তু কে ভয় পাওয়া যাই আমি তার সবকটাকেই পাই। নিজে ভিতু বলে নয় তাদের ভয় প্রদর্শন কে সম্মান জানানোর তাগিদেই পাই। আপনার সামনে সাপ তো আর বাবাজি কি থুল্লু দেখাতে হাজির হয় না। বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না তো সিনেমা ফেলে আসবে না চুক চুক করে আপনার পায়ের বিষ টেনে নিতে। ফোকলা সাপে কামরাবে এ আশাও করা কঠিন। পাঁজরের ক্ষমতা খুব সীমিত এবং নিতম্ব খানিও খুবই অস্থির। বিপদ বুঝলেই উহার সরন ঘটে। 

ধর্মঘটের কাঠালীকলা

ধর্মের কল বাতাসে নড়ে... আর ধর্মঘটের ফল কল-ই-কাতায়। দিনভর আপামর জনতা বনধে-র সফলতা যাচাই তেই মশগুল। আমিও শহিদ শহিদ গলায় আগের বনধে রাস্তায় বেরিয়ে এ বনধে মন কে সান্তনা। আমি তো এমনি এমনি খাই সরি কামাই। বনধে-র সারাদিন এক ঘ্যান ঘ্যেনে ইন্দ্রানী বোরা র ঘটনায় সাময়িক শান্তি তবু। কে কাকে টাকে ঢিল মারল আর সেটা কার ব্রহ্মতালু ওপেন করল সেটাই তো উপজীব্য আজ। তবে ঢিল পরুক না পরুক খিল তো পড়লই।। তবে গরীবের পেটে আর ধনীর দরজায়। কার কি লাভ হল জানি নে। তবে বাঙালী তো। যতক্ষণ না তোমার হিসি আমার গায়ে চলকাচ্ছে ততক্ষণ প্রেস্টিজের গায়ে সুরভিত আন্টিসেপ্টিক ক্রিম। পার্টি করে দেশের উন্নতি করা আর গঙ্গা জল কে পবিত্র বলার মধ্যে বিশেষ কোনও ফারাক নেই। দুটোতেই অন্যকে জবাই করা ইজি। বুঝি তো সবই তবু বনধ টা সর্বাত্মক করতে হবে বস... কেন? পার্টি ই তো পারে ন্যায়ের দাঁতের পাটি উপরে বুকের পাটাতে ভলিউম বাড়াতে।

এরপর গোটা দুয়েক খবরের কাগজ আর আমাদের অবাধ্য কান সারাদিনের মুখের বুলি প্রস্তুত করবে। সরেস, শান্ত গোবেচারা লোক পেয়েছে তো কি আহ্লাদ। যাহা বুঝেছ অন্তকরনে তাহার স্প্রেড করি দাও জগতে। আরেক হয়েছে সুমন। মরলা কি সরপুঁটি ... সব জানে ব্যাটা খুঁটিনাটি। সন্ধে হলেই গোটা কয়েক লোক জোগাড় করে বসে পরে বাঙ্গালীর মনের আহারে ধুয়া দিতে। বাঙ্গালীর তো এখন অস্তিত্ব সঙ্কট। যেখানেই যাচ্ছে বাইনারি সংখ্যার মতন বিপদ হাজির। লেডিস-জেন্টস লোকাল, হিন্দু –মুসলিম ধর্ম, বুদ্ধ-দিদি সবেতেই দোটানা। এত সমস্যা তবু এরই মধ্যে বাঙালী পারে ভিড়ে থাসা ট্রেনে সহযাত্রীর পিঠ কে ট্রেনের বাইরে ঝুলছে দেখেও তাসের পিঠ গুনতে। লোকাল সমস্যা এত যে বনধের সুকল কুফল আর চোখে পরে না। তবু হানি-কারকেও তো হানি থাকে... তাই চোখের পানিতে জীবন বয়ে যায়। 

এসো বাঁধি রাখী

কাল তো বাঙ্গালী মেয়েদের ভাতৃত্ব বোধ তুঙ্গে... কোন কবি যেন বলেছিল, বোন দজ্জাল হোক কিম্বা আদুরে... হাত বাড়িয়ে বসি মাদুরে। বোধ হয় রবীন্দ্রনাথ হবে। হাতের কব্জিতে বিচিত্র রঙ্গিন সব সুতো
কি অদ্ভুত বলুন..মামুলি একটা সুতলি, তার কি ক্রেজ। ৫১ টাকা একটা সুতোর দাম। ও ওই যে রাখী উৎসব। আগে বুঝলে বিপদতারিনী-র কটা “আলিমুদ্দিন” সুতো রেখে দিতুম। এই বাজারে বেশ চলত। গতবার আমার এক জ্যোতিষ সচেতন বান্ধবী নিজের ভাই কে শুনলাম হাতে শিকড় বাকড় বেঁধে দিয়েছে। কনটেন্ট তো একই। সেই সুতো। সঙ্গে ভাগ্যের প্রোটেকশন ফ্রী।  অবশেষে সুতোই কিনলুম। দোকানদার বেশ চালাক। শুধু সুতো নয় দাদা। আমার দোকানে গিফটও পাবেন বলে গছিয়ে দিল। সঙ্গে হেমন্ত মুখুজ্জে বোন সম্পর্কে কি বলেছেন তার গুটিকয় বানী।  
রাখী হোক বা ফোঁটা, মনের পকেটে রাখা পিরিত যেন ঠিক আর্চিস টের পায়। লাল সবুজ টেডির পাছায় শায়িত বিদ্ঘুতে সব ট্যাগ। গলা কতটা কাটবে তার হিসাব লেখা থাকে ওতে । সমগ্র বোন জাতির মনের ট্যাঞ্জেন্তিয়াল রেডিয়াসে ঢুকতে গেলে উহা মিনিমাম এন্ট্রি। তবু বোন তো বোন ই হয়। এবং কালই তো সেই অফিসিয়াল আবদার এর দিন। 

লেডিস ইস্পেশ্যাল [২]

সাত সকালে পরিপাটি সেজে ফুলুবাবূ সেজে যখন ষ্টেশনে যাই, লেডিজ লোকাল আমার গালে আদুরে টোনা মেরে, কানের লতি ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। গুতিকয়েক মহিলা অলস ভাবে সিটে বসে আড়মড়া ভাঙ্গে। আর ঠিক পরের ট্রেনেই আমরা তৈলঙ্গ স্বামী হয়ে দাড়িয়ে থাকি। ফুলুবাবুর ফুল মাঝ পথেই ঝরে যায়। মুখ থেকে শ্লোক বেরিয়ে আসে ; হে ধরনী তুমি স্পেস দাও... এন্ট্রি নেবপাশের সহযাত্রী (অবশ্যই পুরুষ) বিবর্তনের নিয়ম শোনায়; সারভাইভাল ফর দ্য ফিটেস্ট। ট্রেনে উঠতে না পারলে তুমি ফুটে যাবে, সিম্পল। তখন ষ্টেশনে বসে এগ রোলের সাথে বিলোপ রোল করে খাও। ফেসবুকের বুক চাপড়ে-ও কোন লাভ নেই। এখন শুধু মরা বোয়ালের মতন ই-বোর্ডের দিকে চেয়ে থাকা। কি বললেন... ? রেল মন্ত্রী যদি একবার এই ট্রেনে উঠত বুঝতে পারত। আরে মশাই দেশের মাথা আর পাছা দুটি ইকুয়াল করি দিলে চলিবে না।

যাহার ব্যবহার কম তাহা বিলুপ্ত হইবে –এত প্রাচীন কথা। বেশি তাবরে লাভ কি? ডায়নেসর অবধি শিফট ডিলিট হয়ে গেল আর এ তো মামুলি ট্রেন। দিদিই আসল কাজের কাজ টা করেছেন। এক ট্রেন দিয়ে বাঙালীর চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন হিন্দু মুসলিম এর পরের হিট টপিক পিতৃ-মাতৃ ভুমি লোকালের বিবাদ। এজন্যেই দিদির পদধূলি আর মুখের বুলি দুইই আমার কাছে সমান প্রিয়। কেমন সুন্দর হরিশ্চন্দ্র পোঁচে লেডিজ দের একটা গোটা ট্রেন দিলেন...পিম্পল গালে সিম্পল কনসেপ্ট। কি বললেন আপনার বোন নেই ? তো কি বাকি কারো না কারো তো আছে। এটুকু করতে না পারলে ভাইফোঁটা ও রাখীর দিন বোনের জন্য কেদে ফাটাস কেন? শোন ভাই, বন্যেরা বনে সুন্দর ... লেডিজ- রা লেডিজ স্পেশালে।

লেডিস ইস্পেশ্যাল

দিদিরা কয়েছেন মাতৃভূমি তাদের। আমি তো অবাক। হাত ঘড়ির কাঁটায়, ঘোর যখন কাটল তখন দেখি সকাল ৮.৪০। বুঝলাম সত্যি এ ভুমি তেনাদের। পুরুষ প্রবেশ নাস্তি। অগত্যা স্টেশনে বসে ৬০ ওয়াটের বাল্বের মতো ডিপ্রেশন নিয়ে, পুরুষ হবার সমস্যা মনে মনে আওরালাম। তবু একটা কথা সত্য যে, সকালের ভিড় ট্রেনে ওঠবার আগে মাতৃভূমি লোকালের স্পর্শ যেন ম্যা হু না সিনেমার সুস্মিতা সেন। 

ল্যাম্প পোস্ট

নির্জন স্থানে একাকী ল্যাম্প পোস্ট বারাসাতের একাকী নারী-র থেকেও বোধ করি বিপদ জনক। জাতির জনক যেমন গান্ধীজী ঠিক তেমনই বিপদের জনক ল্যাম্প পোস্ট। ঘুমের ঘরে মাঝে মাঝে স্বপ্নে দেখেছি নরকে যমরাজ কাকে যেন অভিশাপ দিল বঙ্গে বাতি স্তম্ভ হইয়া দাঁড়াইয়া থাকিবে।। আ-মোল-যা... স্তম্ভের নিচে যেমন আঁধার তেমন ই দিলে তো ভাগ্যের লোডশেডিং করে। তাও বিদেশে হলি কথা ছিল। বঙ্গে লোকে তো নোনা জলেই ভাসিয়ে দেবে। কুকুরে তুলসি মঞ্চে তো পাবলিকে ল্যাম্প পোস্টে। তাও এখন তো সব ত্রিফলা... যতসব ভাওতা ! দশ মাথাওয়ালা রাবন কেস খেয়ে গেল আর আমার তো মোটে তিনটি। পাড়ার চ্যাঙরা ছোড়া্র পিছন ঠেসে পাড়ার-ই অষ্টাদশী কে- ঝারি মারা-ই হোক বা শ্রীযুক্ত লোধ বাবুর উপযুক্ত কাস্টমারের খবর রাখাই হোক দিন কেটে যায় এভাবেই। শুধু একটাই দুঃখ এই যে, কবি, শুধু দাড়িয়ে থাকতে কি তাল গাছ কেই দেখলেন ?  ওনার পাড়ায় কি মা-বোন ইয়ে থুরি ল্যাম্প পোস্ট নেই... অগত্যা ফেসবুকেই পোস্ট করিলাম” – জনৈক ল্যাম্প পোস্ট

জন্ডিস স্পেশ্যাল ...

বাদর এবং বাঁদরামির মধ্যে তফাত ঠিক কতটা ? 


একটা কর্তা আরেকটি কর্ম।।মোদের পূর্বপুরুষ-রা যতদিন না চার পা এর প্রথম দুটিকে হাত হিসাবে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দিয়েছে ততদিন তারা গাছে ঝুলত আর বনগাঁ লাইন এ থাকলে ট্রেনে ঝুলবে এতে আর সমস্যা কই... মোদ্দা কথাই হল ঝোলা তোমার রক্তে... প্রতহ সকাল বিকাল (গুরুজনের কথা মনে করিয়ে) রেলে তুমি ঝুলিবে গাছে ঝুলিলে যেমন পরার সমস্যা থাকে তেমন এখানে ও। টপুস করে উকুন পড়ার মতো, ট্রেন থেকে যদি পরেও যাও প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো কোনো এক হবু নিউটনের গ্রাভিট সত্য আবার... তবে indian rail কে ধন্যবাদ । প্রভু বলেছেন... ঝুলিতে পারব না বলে মহিলা দের কামড়া সিলেক্ট করিলে চলিবে না। বিজ্ঞ্যাপনদাতারা তো কবে থেকেই বলে চলেছেন, না ঝুলে মামনি কে বল কমপ্লান খাওয়াতে। তবে কি এদিক অদিক দুই পক্ষ মিলে ট্রেনে উঠতে না পারলে কমপ্লান খাওয়ানো হবে?

বাঙালী জাত তো সারাজীবন বর-কনে পক্ষের পরেই বাম পক্ষ আর সাথে ডানপক্ষ কে মিলিয়া আসিয়াছে, এখন তো তাই বাঙালী কে "পক্ষ" পাত দুষ্ট বলিলে চলিবে না... ।