খিস্তি বা গাল অনেকটাই সমার্থক। গুনীজনে বলেন মানসিক রাগ ও শারীরিক অক্ষমতা
র দুই ছেলে; বড় ছেলে খিস্তি আর ছোট ছেলে গাল। এই দুজনে গ্রাম হতে মফস্বল, ধনী হতে
গরিব, আপামর পৃথিবীতে কেমন গনতন্ত্র বজায়
রেখেছে তা আর বলার জায়গা রাখে না। শক্তির যেমন রুপান্তর হয় তেমনি এদের ও। কেমন
গুটি কয়েক শব্দ প্রয়োগ কত সহজে আপনার মনের সমস্ত রাগ ইয়ে করে দেবে। যেমন রন পা
পরেছে বামন ঠিক তেমনই রাগের খিস্তির প্রতি প্রলোভন। আপনি যাবেন কথায় মশাই! বরঞ্চ
এই গালের সাগরে তাপস পাল হয়ে যান। আপনার অমন নিটোল গাল বেয়ে ঝরে পরুক সে। দেখবেন
কি আমেজ। কি অমোঘ শান্তি। বিপক্ষের চুপসে যাওয়া প্রেস্টিজে ঠুসে দিন আপনার বদরাগ।
রাগ চেপে রাখলেই ডিপ্রেশনের চড়া স্রোত আপানার সবকটি ইন্দ্রিয় কে স্পর্শ করে গলার
ঠিক ডগায় বুজবুজিয়ে উঠবে। নরম তরম পাবলিক হলে তো কথাই নেই। গুটি কয়েক দমকল চোখের
ঠিক ডগায় এসে হাজির। এসব ছেড়ে তেরেফুরে দিন তো দেখি গোটা দুয়েক মা মাসি টেনে।
গালাগাল ও এক প্রকার হটজোগ। (বিয়োগও বলতে পারেন কারন রাগ বিয়োগ করে দেয়) যা
আপনি অহরহ যথাতথা দিনে রাতে দিতে পারেন। এ আপনার মন ও শরীর দুইই ভাল রাখে। অনেকটা
মদের মতন। আপনি জানেন এটা ক্ষতিকর কিন্তু তাও না দিলে রাগ কমে না। তাও উপকারী দিক
টা ভাবুন। আপনার সমগ্র রাগের বহিঃপ্রকাশ করতে কত কথা দরকার তা না বলে দুষ্টু
মিষ্টি দিলেন একটা ঝেড়ে। অনেকটা ছেলেবেলায় এক কথায় প্রকাশের মতন। উল্টে এক শব্দে
বহু টাইপের রাগের প্রকাশ সম্ভব। এই বিশ্বায়নের যুগে এহেন টাইম সেভিং কি বা হতে
পারে বলুন।
কি বললেন প্রেস্টিজ চলে যাবে। আরে মশাই প্রেস্টিজ সব ভাওতা। নস্টালজিক
ছিঁচকাঁদুনী সব। আগেও লোকে গাল দিতো এখন দেয়। রামকৃষ্ণ কি তার শিষ্য দের গাল
দেয়নি? ব্যাপার তা একই। শুধু কোয়ালিটি টাই বদলেছে এই যা। ঐ আগে লোকে হরতকি চুষত আর
এখন জেলোসিল চোষে। সোজা কথা স্মার্টনেসের এই মোচ্ছবে পা মেলাতে হোলে আপনাকে
বিপক্ষের ১৪ গুষ্ঠির সম্পর্কে নলেজ রাখা মাস্ট।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন