শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কোচিং এর কচ-কচানী

যখন খুব কচি ছিলাম তখন কোচিং ক্লাসের একটি মেয়ে কে বেশ ভাল লাগত। সে অনেক কাল আগের কথা।  তখন প্রেমের বানান জানতুম না। তাই বলা হয়নি। নিদেন পক্ষে হেঁচকি উঠেও সেদিন প্রপোজ করিতে পারিনি। যতবার ভেবেছি আর নয় এবার তোকে বলেই দেব, ততবার দাঁতের টাকরায় কথা গুলো চুইংগামের মতন লেপটে থাকে। বন্ধুরা খিস্তি মারিত। বাছা বাছা ২-৪ অক্ষর। কিন্তু ভালোলাগে এটা বলা যে এত চাপ জানতুম না। আমি তো জানতুম জীবনে যা ভাললাগে তা গলা উচিয়ে জানান দিতে হয়। মনে অদিকে প্রেম দিবারাত্র কুলকুচি করে চলেছে। তবু বলতে পারছি না। চোখে চোখ রেখে তাকাতেও পারছি না। কি জ্বালা। প্রেম চুইয়ে পরে হৃদয়ের পিত্তি গেলে গেছে। সে জ্বালায় জ্বলছি আর সে ক্ষতে বন্ধুরা নুন স্প্রে করিছে। বলিল লাভ লেটার লেখ। আমার হাতের চিঠি মানে তো বাংলা ভাষা শহিদ। তখন আমার মোবাইল ছিল না। মেঘনাদের মতন আড়াল থেকে লুকিয়ে এসএমএস করিব সে রাস্তাও বন্ধ।

রোজ তার জন্য কোচিং ক্লাস টা যেতুম। বাংলা সাহিত্যের চর্যাপদ এর মতন বদখদ বস্তু ব্যাজার মুখ করে শুনতে হত। ক্লাস শেষে ‘ও’ যেই বলল; “তুই আমার বাড়ির পাশ দিয়ে যাবি ? ” তখন তো আমার মনে “ইয়ে মেরা দিল প্যার কা দিওয়ানা”। একসাথে হাটছি। মাথা নিচু, পা থর থর করে কাঁপছে। টেনশনে হিসু পেয়ে যায়। কি কাণ্ড। ঘড়ির কাটা টা বড্ড তাড়া দেখাচ্চে আজ। একটু মিনিমাম সেন্স ও নেই। হটাত বলে উঠল তুই তো ভাল কাটুন আঁকিস আমায় একটা একে দিস তো। ওর বাড়ি ক্রস করে একটা অন্ধকার ল্যাম্প পোস্টে প্যারাবোলা মেপে হিসু করলামএতক্ষণে টেনশন কে বিসর্জন দিলুম। উফফ।

শুনেছি মেয়েরা ছেলেদের মুখ দেখলে সব বোঝে। ও বুঝত কিনা জানিনে তবে আমার পাশে বসতো। আমার মনে তো তখন গান্ডিবের ঝিনচ্যাক। এরপর যেদিন টিচার্স ডে তে ফোন করে কখন আসব জানতে চাইল সেদিন তো দাঁত টু আলজিহ্বা কে শিখিয়ে পরিয়ে নিলুম কিভাবে তারা ভালবাসার জানান দিবে চোখের ইশারা পেলে। এর পর মহার্ঘ সেই দিন। কিন্তু আমার জিব টেনশনে পরলে যে লালায় হরকায় তা জানতুম নে।

তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। ঝলসানো চিকেন তন্দুরী তে কনসেন্ট্রেশন দিয়ে তোর বিয়ের নিমত্রন টা উতরালাম। ওকৎ করে যাবতীয় স্মৃতির সিফট ডিলিট। জিভ এখন অনেক পরিনত। এখন সে স্পষ্ট করে ভাললাগার জানান দিতে পারে। 

কোন মন্তব্য নেই: