(বি. দ্রঃ এ লেখা প্রবল ভাবে আপামর
জনসাধারণের জন্যে, যারা গরু, শুয়োর উভয় কেই প্রোটিনের ট্যাঙ্ক হিসাবে দেখে, ধর্মের
প্রতিক রুপে নয়। যারা চোখের সাথে মন খুলে রাখা কেও সজাগ থাকার উপকরন ভাবতে পারে।
বাদ বাকিরা বিচক্ষণ। তাই তাহারা বাদ...)
খুব যুদ্ধ করতে ইচ্ছে করছে। হাতে বন্ধুক নিয়ে
সামনে যাই পাইনা কেন ঠাস ঠাস ঠাস। উফফ... নিপুন হাতে দূর থেকে শত্তুর কে নিকেশ
করছি আমি। ফিলিং কেউকেটা অনেকটা। ছেলেবেলায় ক্যাপ ফাটানোর বন্দুকে শুধুই শব্দ হত।
কিন্তু মনে মনে আমি কখনও কার্গিল, কখন শ্রীনগরে
ঘুরে বেরাচ্ছি। বন্ধুদের হাতে পায়ে ধরে পাকিস্তানি হতে অনুরোধ করতাম। যাতে গুছিয়ে
কেলানো যায়। কিন্তু মনে যতই বল থাক। শরীরে তো বল আর নাই। তাই মনে মনেই ভাবতুম
চারপাশে 'পাকিস্তান' নামক শত্তুরেরা
কিলবিল করছে। আমি তো তখন মিঠুন চক্কত্তি। বিপক্ষের গুলি তে আমি পটল তুলি এ কনসেপ্ট
তখনও মনে জাগেনি। অতএব মনে মনেই ওদের ঠ্যাঙ্গাতাম। সে এক অদ্ভুত স্বর্গীয় ইয়ে মানে
ভারতীয় সাজার সুখ।
যাই হোক, সম্প্রতি ঊরি হামলায় জঙ্গি
গুলান আমগো দাদা ভাইদের মেরে যাওয়ার পর আবার সেই বন্দুক চাগানোর ইচ্ছে চাগার
দিয়েছে। ট্রেনে বাসে অটোতে সর্বত্র পাকিস্তান কে কিভাবে উপযুক্ত শিক্ষ্যা দেওয়া
যায় তারই আলোচনা। সরেস একটা যুদ্ধ চাই মামা। নাহলে এত খরচা করে সেনাবাহিনি পোষা
কেন? এত খরচা করে আমেরিকার থেকে যন্ত্রপাতি কেনা কেন?
ওরে বাবা একটা গুছিয়ে যুদ্ধ হলে তবে পাকিস্তানি বাচ্চা গুলোকে উচিত
শিক্ষ্যা দেওয়া যেতো। তাই নয় কি ? রাশিয়া তো আমাগো দেশের
ন্যাপি ফেন্ড। ওদের বগলদাবা করে একটা যদি গুছিয়ে যুদ্ধ হয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে
তখন ওরা বুঝবে কত জঙ্গিতে কত বাম্বু। তুচিয়া দেশ শালা। তাপস পাল কে চেনে? আর অনুব্রত কে? সিপিয়েম বেশি পায়তারা করেছিল। ওদের
অবস্থা কি হয়েছে দেখেনি? ঘরে ছেলে না ঢুকিয়ে এবার দেশে ছেলে
ঢোকাবো শালা। আমরা সব পারি। আমাগো মুখেই বাঘ টু জলহস্তি, পাকিস্তানে
ছেলে ঢুকালে তবেই সস্তি।
কিন্তু, যুদ্ধ বাধলে তো সমস্যা মিটবে
না বরং আর বাড়বে। ওরাও তো মারবে। সেনা বাহিনিতে তো আমাদের মতন ঘরেরই ছেলেপুলেরা
রয়েছে। তারপর যুদ্ধ বাধলে প্রানহানি আর বাড়বে। এ তো আর ছেলেবেলার মতন ঢ্যিচকাও ঢ্যিচকাও যুদ্ধ নয়। প্রচুর টাকার ব্যাপার, অগুনতি
প্রানহানির সমস্যা। মরবে কারা? একটা নেতাও কিন্তু মরবে না।
আমি আপনি মরলেও অনেক পরে মরব। মরবে আগে দেশের সেনা গুলান। শহীদ বলিয়া ২মাস ফেসবুকে
স্মৃতি থাকবে জেগে। তারপরেই যাবতীয় স্মৃতির সিফট ডিলিট। আসলে ব্রেনলিয়া না
খাওয়া বাচ্চা তো।
আমরা তো মুখেই শের। সেনা মরলে ডিপি-তে মোমবাতি
জ্বেলে একশা। দুদিন এ মেরে বতন কে লোগো তে গলা বুজে আসবে। কিন্তু আসল সমস্যা কি
একটা দুটো যুদ্ধে মিটবে? বরং
যুদ্ধের পর শুরু হবে আসল বেঁচে থাকার লড়াই। একটা যুদ্ধে দুই দেশেরই ইকনমিক রেট
ধড়াস করে পড়বে। যুদ্ধের দোহাই দিয়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। ক্ষতি কার? আরে এ তো ছেলেবেলার সে যুদ্ধ নয়। এতো
বাস্তবিক যুদ্ধ। পাকিস্তানের কথা ছেরেই দিন। ওদের এমনিতেই যা অবস্থা কিছুই আর
হারানোর নেই। কিন্তু ভারতের মতন প্রগতিশীল দেশের কাছে টেটিয়া প্রতিবেশী কে টাইট
করার জন্যে অনেক অস্ত্র মজুদ আছে। না সেটা যুদ্ধ করে প্রমান করার দরকার নেই।
নেতা-মন্ত্রী, শিল্পপতিদের কিছুই হবে না। আমি
আপনি উলুখাগ্রারা সেজে দেশ প্রেমের আঁচ পোহাব। আর আমাদের সেনাবাহিনি সেই
দেশপ্রেমের আঁচে পুড়ে আমাকে আপনাকে দেশপ্রেমের উদাহরন সেঁটে যাবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন