জন্মদিনের রাতে হটাতই ৫০০-১০০০ এর নোট বাতিল।
পরের দিন সকালে, ব্যাঙ্কের সামনে যথারীতি সাঙ্ঘাতিক লাইন। বুলুর জ্যাঠা, ফুলু
পিসি, চাদুর ন-কাকিমা সবাই লাইনে দাড়িয়ে। সবার চোখে মুখে
চাপা হতাশা। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামে গান্ধীজীর বাদামী প্রতিচ্ছবি। আমার এসবে
ভুক্ষেপ নেই। গোটা দুই ৫০০ টাকা হাতে করে দাঁড়িয়ে পরেছি। লাইনে দাড়িয়ে গপ্প করছি। হেডফোনে গান বাজছে; এগিয়ে দে এগিয়ে দে... দুই এক পা এগিয়ে দে। রেগুলার ইন্টারভালে ভগবানের কাছে কাতর পার্থনা
করছি, বেশী নয় প্রভু, মাত্র
একটা অপ্সরা টাইপ মেয়ের এন্ট্রী দাও। বাকিটা পুরুষালি কর্ম দক্ষতার নিরিখে যাচাই
হোক। আমাদের লোকাল স্টেট ব্যাঙ্কে এমনিতেই মেয়ের ঘাটতি। ক্ষণিক বাদে প্রভু বর
দিলেন। নিউমেরিক্যাল তত্ত্বের দিক থেকে বিচার না করলেও মেয়েটি বেশ সুন্দরী। দুই
একবার তাকিয়েও যখন মুখটা মুখস্ত হল না টেরিয়ে তাকানো শুরু করলুম। বিশ্বাস করুন
ভগবান আছে সত্যি। সমান তালে রেসপন্স আস্তে শুরু করল। কানের গোঁড়ায় চুল গুঁজে দেওয়া
থেকে, লক্স নাড়িয়ে চাড়িয়ে-
বুঝলাম মেয়ে খেলুড়ে। চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম
এহেন ইনপুট নেওয়ার মত কেউ নেই, সবাই বয়স্ক।
ক্ষণিকেই আমার টেস্টোস্টেরন উসেইন বোল্ট। পরক্ষনেই মনে ভয়, নিজেরই
কোনোও প্রাক্তন ছাত্রী নয়তো অথবা পুরানো কোনোও বান্ধবী। আমার নিজের স্মৃতিশক্তির
প্রতি ভরসা ছেলেবেলা থেকেই নেই। সাথে সাথে ব্রেনের ডেটাবেস ঘাটতে শুরু করলাম। মনকে আগাম সান্তনা দিলুম, স্ট্যাট
ব্যাটে খেল। যা হয় হবে। মেয়েটি ইতিমধ্যে ডিডিএলজি মার্কা একটা ফিরতি লুক্স দিতেই
মনে ভুমিকম্প শুরু। মন মধ্যে ইন্দ্রনাথীয় স্টাইলে বল্লুম, প্রেম
করতে তো, একদিন হবেই ভাই। তড়িঘড়ি ব্যাঙ্কের ফর্ম টেনে ঘষঘষ
করে যাবতীয় কাজ সারতে যাব এমন সময় মেয়েটি পাশে দাঁড়িয়ে বলল, "দাদা কলম টা একটু হবে? একটা লেটার..."
-নিশ্চয়ই।
এরপর অদরকারি কিছু বাক্যালাপ এগোতে এগোতে বুঝতে
পারলুম শ্রীমতি আমার থেকে কমপক্ষে ৩ বছরের বড়। সাতসকালে সরল মন টার এভাবে
শ্লীতাহানি হয়ে যাবে ভাবিনি। পেনের জন্যে ওয়েট করছি। শ্রীমতির বিয়ের জন্যে আগাম
শুভেচ্ছা জানিয়ে বাড়ির পথে হাটা দিলাম।
আমার আর "শচীন" হওয়া হলনা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন