বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭

গণতান্ত্রিক নয় জলতান্ত্রিক

বর্ষাকাল এলেই আমার মনের ল্যাদারু সত্তা জাগ্রত হয় খাটে সুয়ে আড়মরা ভাঙ্গি আর জানলায় তাকিয়ে রাবেন্দ্রিক ভঙ্গীতে বৃষ্টি কে দেখি। হটাত দমকা হাওয়ায় জলের ছাঁট এসে মাঝে মাঝেই ইমোশনের কৃষ্ণপ্রাপ্তি ঘটাচ্ছে। ঘনঘন ব্রেহ্মতালু চুলকচ্ছি। উহু কিছুতেই মাথায় আসছে নাপুষ্টিকর কিছু একটা করতে ইচ্ছে করছে। মা এসে হুট করে ফ্যান টা ছেড়ে দিয়ে গেল। কাথাটা পায়ের কাছে পোষ্য ডগির মত শুয়ে আছে। আদুরে হাতে টানলেই শরীরের ওপর সপে দেবে অনাবশ্যকীয় আদর। কাথা মুরি দিয়েই ভাবছি কিভাবে দেশ ও দশ কে আমি কৃপা করতে পারি? পাশের বাড়ির বাচ্চাটা এসেই দুস্টুমি করার চেষ্টা করছিল। মুহুর্তে কমল মিত্র মার্কা লুকস দিয়ে ওকে শান্ত করলাম। কান ধরে টেনে এনে কাগজ ছিরে নৌকা বানাতে বসলাম। হটাত এক বন্ধু ফোন করল, “চল বেরবি! ভিজব।“ আমি আজন্ম রুগি। তাও ছাতা হাতে ভিজতে বেরুলাম। বিরাটির দিকে যেতে না যেতেই ভিজে চুপ্পুস। লাগোয়া খাল জলে উপচে পড়ছে। অফিসযাত্রী টু ব্যাস্ত মাসিমা তেড়ে পুরসভা কে গাল পারছেন। চ্যাংড়া ছেলেপুলেদের তো আজ মোচ্ছব। মশারীর জাল খালে চুবিয়ে মাছ ধরা চলছে। মনসা বাড়ির দাদু ওদের বিনি পয়সার জ্ঞান বিলোচ্ছেন, “কিরে কি মাছ? পুটি না কৈ?... জাল টা এভাবে ধর উহু ওটা না...” পাশ থেকে হটাতই ডাউস করে একটা অটো চলে গেল। আমার পদযুগল টূ খুসকি সব্বাই কে ভাসিয়ে দিলে। মুহুর্তে  ঘাতক দুই চার অক্ষর। এক ভদ্রলোক পাশ থেকে তার দুধের শিশু কে বাসুদেবীয় ঢঙে মাথায় নিয়ে চললেন। আমি এক দোকানে শেডের তলায় দাড়িয়ে বৃষ্টি মাপছি। মিনিস্কার্টে এক দাদু পাশে এসে দাঁড়ালেন। আমি তো চমকে চুয়াল্লিশ। পরে অবশ্যি বুঝলাম বৃষ্টির জমা জলের থেকে বাচতে এমন অবাঞ্ছিত থাই প্রর্দশন। তিনি দাড়িয়ে বউকে ফোন করতে লাগলেন- “ ইলিশ একটা ভাপা আরেকটা তেলে হবে...”। উফফ ক্ষণিকেই মুখের ভেতরে বর্ষাকাল। এক ফচকে ছেলে আচমকা নাক ঝেড়ে অনাহূত সম্পত্তি সোজা জলে ফেলল। পা দিয়ে শিশু সুলভ ঢেউ তৈরি করে সেটাকে যতটা সম্ভব দূরে চালান করলাম। পা যে রেটে চুলকচ্ছে ডেটলে আজ আপাদ মস্তক চুবনি না দিয়ে শান্তি নেই। খালপারের বাচ্চা গুলো খালের নোংরা জলে ডুব সাতার দিচ্ছে। মুহুর্তে মনে হল, বিরাটি শুধু গণতান্ত্রিক নয় জলতান্ত্রিক প্লেস-ও বটে

কোন মন্তব্য নেই: