এক জেনারেল বাঙ্গালী ছেলের কি ই বা আছে বলুন
জীবনে? থুতু ফেলা রাস্তায় হন্টন, কিছু পাজির পাঝাড়া নেতার বচন ছাড়া আর কিছুই নাই।
এমনতর ছেলের জীবনে যখন মঙ্গল, বৃহস্পতি পটাপট তিন ছক্কা পুটের মতন এন্ট্রি নেয় তখন
আর দেখে কে । মনে লগ্নজিতার লাইভ শো, বসন্ত এসে গেছে। ধরুন আপনি অটো তে উঠলেন ঠিক
সেই সময় আপনার পাশে বসে অকাল বসন্ত কানে হেডফোন গুঁজে বসে। সত্যি এরা কেন যে একই
কোচিং-এ পরে না, সহপাঠিনী হয়ে আসেনা জানিনে। শুধু অটোর লাইনে এদের দেখা যায়। তারপর
এক অশীতিপর হতাশা দ্বিতীয় বসন্তের জন্যে ওয়েট করে। ধুর আজই রাস্তাটায় কোনও জ্যাম
নেই।
ট্রেনে উঠলাম। বাঁদিকে কার্নিক মেরে
হাঁড়িপানা মুখওয়ালার পিছনে পিছন ঘষটে রেল মন্ত্রীর প্রতি দু চারটে বাছা বাছা বাংলা
দিতে যাব এমন সময় দ্বিতীয় বসন্তে চোখ পড়ল। ‘তিনি’ পরের স্টেশনে নামবেন। অগত্যা ট্রেনের সমস্ত
বাম্পার ঝাঁকুনি নিজের দেহে নেই, যাতে ওনার ‘তেনার’ শ্রীঅঙ্গে টাচ পর্যন্ত না
লাগে। অনেকটা ক্রুশবিদ্ধ যীশুর মতন। অত্যাচার সইতে হয় কিচ্ছুটি না বলে। আমার নিত্য
দিনের এহেণ মহত্ত্বের ঘনত্ব মুখের এক্সপ্রেশনে লেপে ধরি, করুনা ভিক্ষে। এরপর স্টেশনে নামার সময় তো নিজের ব্যাগ হাত পা
সামলে, পিঠ বাঁকিয়ে আর্চ করে নিজেকে অলিম্পিক বালিকা প্রমান করতে হয়। যাতে
নিতম্বনিতাম্বি না হয়। তদুপরি যে সমস্যা মন কে গ্রাস করে টা অতীব ভয়ঙ্কর। মনে
প্রবল ইচ্ছে আরেকটি বার তাকাই। কিন্তু পারছিনে। অগত্যা টেবিল ফ্যানের মতো
নির্দিষ্ট ইন্টারভ্যালে ওদিকে মোচড় মারি। কখনও আড়ে, কখনও বা সোজা। প্রথমবার দেখেই
মুখের গঠন মুখস্ত হয়ে গেলে ভালো অন্যথায় আবার রিভাইজ। তবে দেখলুম, মুখস্তবিদ্যা টা
ভালোই।এভাবে দেখার সময় মেয়েটি-ও যখন ফেরতি দৃষ্টি দেয় তখন তো আর কথাই নেই। তখন
লজ্জায় ডানে বায়ে আকাশে তাকাই। যতটা সম্ভব দূরে রাবেন্দ্রিক দৃষ্টিতে জানলা দেখি।
যেন জীবনে প্রথমবার ট্রেনে উঠলাম। কোন স্টেশন গেলো দাদা! বন্ধুর বক্তব্যে চূড়ান্ত
আনস্মার্ট। প্রেমের খেলায় ডিস্কোয়ালিফাই।
(সত্যি ঘটনা অবলম্বনে রচিত)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন