বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭

শিক্ষক দিবস

শিক্ষক একটা আলাদা জাত। এরা দুই প্রকার। এক যারা বেতের সাথে জ্ঞ্যানের সম্পর্ক কে সমানুপাতিক বলে ধরে। আর দুই যারা নিজ নিজ জ্ঞ্যান বুদ্ধি কে মিহি করে ছাত্রের সামনে পেশ করে। প্রথম জনের দাবী খুব পরিষ্কার। উদোম ঠেঙ্গাও যতক্ষন না ভয় শিক্ষার চারপাশে বেরিকেড তৈরি করছে। এক পা এদিকেও নয়, এক পা ওদিকেও নয়। ভয়ের গুঁতোয় সোজা শিক্ষ্যার দিকে উসেইন বোল্ট তৈরি করাই মোক্ষ। দ্বিতীয় জনে তাহার সমস্ত জ্ঞ্যান, বিদ্যেবুদ্ধিকে মিক্সিতে দিবারাত্র মিহি করে ছাত্র কে বোঝাচ্ছেন। যতক্ষন না ছাত্রটি শিক্ষ্যার নিঃশ্বাস ছাড়ছে স্যার কিন্তু নাছোড়। নিজ জীবনে আমি দুই রকম স্যারেরই সান্নিধ্য পেয়েছি। প্রথম জনের প্রতি ভক্তি বিন্দুমাত্র জন্মায়নি। আমার সুপারসহিশ্নু নিতম্ব খানি কাষ্ঠকঠিন স্কেলের টর্চারে নিত্য অত্যাচারিত হত। তবে ভালো--বাসতেন। আমার দ্বারা যে কিছু হওয়া সম্ভব না সেটি জগতে ৩-জন বিশ্বাস করতেন। আমার কিছু স্যার, কিছু পড়শি আর কিছু বন্ধুবান্ধব। আমার বাবা মার সাঙ্ঘাতিক বিশ্বাস ছিল আমার ওপর। ছেলে অপদার্থ হলেও টেরেফিক গোছের হবে। উচ্চমাধ্যমিকে কোনোমতে ১ম বিভাগ পেয়ে হাফাচ্ছি। কিন্তু পড়ব কি? সায়েন্সের কিছুই তো ভাল লাগে না। মেয়েহীন বিয়েবাড়ি পুরো। দাদার এক দাপুটে বন্ধু নিউব্যারাকপুরে থাকত। সে ডেকে পাঠালে, ভাবলুম গুছিয়ে বকাঝকা করবে। মা বাবার সামনে উলটে সটান বলে দিলে,”অয়নের হলে কম্পিউটারে কিছু হতে পারে। বাকিগুলোতে ছড়িয়ে লাট করবে ও।বাংলা সাহিত্যের এমন টেস্ট আগে কখন পাইনি। সুনাম আর দুর্নামের মাঝে লটকাচ্ছি তখন। গেম খেলার তাগিদে কম্পিউটার সায়েন্স কে স্বাগত জানালাম। অতপর দাদার সেই বন্ধুর কাছে লড়াই শুরু হল। জীবনে প্রথম কেউ বই  হাতে দিয়ে বলেছিল, “বেশী পড়তে যাস না অয়ন। তোর হবে এমনিতেই।যা! বার খেয়ে নিলুম। মলিকুলার লক্ষ্য স্থির হল। তারই পরামর্শে মনীন্দ্র কলেজে ঢুকলাম। তারপর সায়েন্স কলেজে এসে আরেক জনের সান্নিধ্যে এলুম। তিনি বড়ই পিতৃস্থানীয়। ছাত্রকে নিজের ছেলের মতই দেখতেন। পড়াশুনা না করলে কখনও এমন বকেছেন রাতে ২দিন ঘুমোতে পারিনি। কখন বোকাঝোকার পর ভালোবেসে লজেন্সের ডিব্বা খুলে সামনে ধরেছেন। কখনও অন্যায় করলে সোজাসুজি না বকে উদাহরন দিয়ে বোঝাতেন। অদ্ভুত এক মানুষ। মাঝে মধ্যে এমন রাগ হয় তবু আমার জীবনে চলার রাস্তায় এখনও নিস্তব্ধে অবিরত পিচ ঢেলে চলেছেন। অতঃপর যাই হোক প্রথমে সেই দাদার জন্যে শিক্ষার প্রেমে পড়লাম। তারপর শিক্ষ্যার সাথে বিয়ের ঘটকালি করলেন সেই পিতৃস্থানীয় টিচার। তবু ছেলেবেলা থেকে এখনো পর্যন্ত যেই কজন স্যার বা ম্যাডামরা আমার ওপর আস্থা (বা অনাস্থা অথবা দুটোই) রেখে শিক্ষ্যার রাস্তায় আমায় ঠেলে দিয়েছেন তাদের প্রতি আমার ভালবাসা এখনও অটুট।

কোন মন্তব্য নেই: