আজ নাকি নারী দিবস। কি
সর্বনাশ। প্রথমে একটা গোটা ট্রেন এখন একটা গোটা দিনও। যাই হোক জীবনে প্রথম নারী
বলিতে প্রথমেই মা। যার আমার প্রতি অগাধ আত্মবিশ্বাস। ছেলেবেলায় পড়শি টু রিলেটিভ
সবাই যখন আমার জঙ্গিপনায় কাতর, তিনিই একমাত্র ঠেঙিয়েছেন পরক্ষনেই বুঝিয়েছেন ভাল
ছেলে হইবার একশত উপায়। যদিও ৯৯.৫ খানা উপায় তৎক্ষণাৎ ভুলে মেরেছি। যাই হোক, ‘মা’
বাদে অন্য নারির সহিত আমার প্রথম পরিচয় গ্র্যজুয়েশনে। বাই-‘নারি’ সঙ্খ্যার সুবাদে।
পরে বুঝিলাম বসুন্ধরায় এবাদেও আরেক নারী বিদ্যমান। তাহাকে সাদা খাতায় কষিতে হয়না।
তাহাকে আপাদমস্তক জরিপ করিয়া তাহার মন মত কথা কহিলে ভালবাসা নামক এক অপার্থিব
বস্তুর সন্ধান মেলে। নিজের সকল প্রকার বিরক্তি নিজ নিজ হিপ পকেটে গচ্ছিত রাখিয়া
ক্ষনে ক্ষনে নারী কুলের প্রশংসা সুচক দুচারিটি বানীই যথেষ্ট আপনার বামগালে রঙ্গিন
ওষ্ঠের ছাপ বসাইতে। সত্যি বলতে কি! অল্পেতে সাধ মেটে না, এ ‘ছাপের’ ভাগ হবে না।
আমার কিছু বন্ধু খুব খেলুরে। দূর হতে
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে জরিপ করিয়া বলিবে, মেয়ে খেলুরে কি আদুরে। সে প্রেমের খেলায় নাই।
তার কাছে প্রেম হল বইমেলার মতন। স্টল প্রচুর, তা বলেই কি প্রেম করতে থুরি বই কিনতে
হবে! আরেকজন আবার খুব সেন্টিমেন্টাল। অনেকটা ন্যাকা প্রসেঞ্জিত টাইপ। প্রেমিকার
পায়ের কড়াও তার হৃদয় কাপিয়ে দেয়। যাই হোক প্রেমিকা বাদেও আরেকটি দুর্লভ নারী
চরিত্র জগতে বিদ্যমান- সে হোল বোন। জগতে যা সমস্যার আপনি সম্মুখীন হবেন তার ১/৩
ভাগ এরাই তৈরি করে। পান থেকে চুন খসলে দাদার প্রতি তেজ দেখাবে। কিন্তু এসব বাদ
দিয়ে রাখী এবং ভাইফোঁটার সময়টায় যখন পা ছুয়ে একটা প্রনাম ঠোকে হেব্বি লাগে। ইচ্ছে
করে সপাটে একটা গাট্টা মারি, কিন্তু ... । মনটা রিনরিন করে ওঠে। তৃতীয় নারী চরিত্র
হোল বান্ধবী। অনেকটা ফ্লিপকার্টের মতন অপশন। অনেক বান্ধবী। চুজ করে নাও। যাকে
আপনার ভাল লাগিবে এনগেজড টোন পেলে সেকেন্ড অপশন। আমি আনপাট গাওয়ার। এসব দেখে খ্যাল
খ্যাল করে হাসি। কাপল দেখলে হা করে তাকিয়ে থাকি। সুন্দরী মেয়ে দেখলেও হাঁ। মনে
প্রেম চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে। একে একে বন্ধুরা ইউনারী থেকে বাইনারী তে
পরিবর্তিত। আমি চোয়ালে প্রেম গুজে দাড়িয়ে থাকি। জীবনে নারীর অবদান বলিতে গেলে ধেলে
দিই যুক্তির অম্বল; “টান দুই রকম-শৈশবে
মা-র সহিত নাড়ির টান আর যৌবনে নারীর প্রতি টান।” মুহুর্তে চারপাশ খ্যাকখ্যাক। যতসব
!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন