ছেলেবেলায় যতবার নামতা মুখস্ত করে স্লেটে
লিখতে যেতুম ততবার ১ -২ এই সংখ্যা গুলো মোমবাতি, হাসের রুপ নিতো। ধুত্তর, এই অঙ্ক।
কোনদিনই উহার সাথে সখ্যতা আমার গড়ে ওঠে নি। মা বাবা,অঙ্কের স্যার মধ্যস্থতাকারী
রুপে এন্ট্রি নিতো ঠিকই কিন্তু অঙ্কের সাথে ঠিক বনিবনা হত না। বাবার এক বয়স্ক বন্ধু
ছিলেন। আর্ট কলেজের লোক। টুকটাক জ্যোতিষও জানতেন বোধ করি। তিনি একদিন আমার বাম হাত
টেনে বললেন, “এর দ্বারা কিছুই হবেনা”। অদ্ভুত। বামহাত সকালে যে কাজে লিপ্ত হয় তারপরে এই হাত থেকে
ভাল কিছু কিভাবে বেরোতে পারে?
যথারীতি বাবা মা হতাশ। একই
দিনে অঙ্কের স্যারও আবার নালিশ ঠুকল। মনে মনে লোকনাথ বাবা কে ডাকছি। সেদিনই আঁকার
ক্লাসে ভর্তি হলাম। নটরাজ পেন্সিল আর সেন্টেড রবার পেন্সিল বক্সে ঢুকিয়ে, লম্বা
খাতা আর জলের বোতল নিয়ে ক্লাসে গেলাম। প্রথম দিনেই সূর্যমুখী তে হলুদ রঙ ঘষে
প্রচুর প্রশংসা কুড়োলাম। এরপর একে একে গ্রামের মেঠো পথ, কলসী কাঁধে বউ, দাড়িওয়ালা
রবিদাদু সব হল। এতদিন সব ঠিকঠাক চলত। কিন্তু বিপদ বাড়ল যেদিন জলরঙে ঢুকলাম। সত্যি
বলতে সেদিনই ব্যাপারটায় জল ঢুকে গেল। জলের সাথে রঙের মেশানো ব্যাপারটা ঠিক বুঝেই
উঠতে পারলাম না। স্যার ধমক দিলে বিজ্ঞের মত জবাব রেডি, আমি সাদা কালো পছন্দ করি
স্যার। জলরঙ শেষে যখন উঠতাম পাতা ফুলে ফেঁপে একসা। সপ্রচুর সময় লাগতো। বিরক্তিকর। জলরঙ শেখা আমার
আর হলনা।
প্রত্যেক রবিবার ঠিক দশটায়
স্যারের বাড়ি ক্লাস হত। চন্দ্রকান্তা, ছুটি ছুটি, শক্তিমান সব কিছুর মায়া ত্যাগ
করে স্যারের কথা মত নিজের মন কে উজার করে দিতাম সাদা পাতায়। জীবনে রঙ থাকুক না
থাকুক আমার আঁকার প্রত্যেক পাতা ভরে উঠত মনের রঙে। ভিষন ইচ্ছে করত সারাজীবন এঁকে-ই
যাব। কিন্তু ইচ্ছেরা সততই পরিস্থিতির প্রতিকুল। তারপর অনেক দিন চলে গেছে। পড়াশুনায়
গোঁত্তা খেতে খেতে যখনই সাদা পাতার সামনে দাড়াই, কেউ যেন আড়াল থেকে বলে, নে অয়ন,
পেন্সিলের খোঁচায় ক্ষতবিক্ষত করে দে আমায়। শরীরে মাখিয়ে দে গ্রাফাইটের আদর। রঙ তো
সবারই থাকে, কিন্তু সাদা কালোয় বেঁচে থাকে আমি আর আমার প্রেম - ন্য অঙ্কে তবু
অঙ্কনে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন