বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭

'দেশাত্মবোধক' একটি ছেলেমানুষিক শব্দ

প্রেক্ষ্যাপটঃ   এই র'চোনা' কেবলন্মাত্র দুঃস্থ পাঠকদের স্বার্থে উহাদের ব্রেনের কলকব্জায় যে 'দেশাত্মবোধক' নামক কঠিন শব্দ আটকে পড়িয়াছে তাহাতে কেবল নাড়া দিবার স্বার্থে আপনি বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ তাই আপনি বাদ

প্রথমেই বলি আমি JU তথা JNU এর আন্দোলনের সাথে সম্পুর্ন ভাবে একমত নই এই লেখার কোন দায়ও নেই তাদের বক্তব্যের সাথে মিলিত ভাবে তালে তাল মেলানোর এর পাশাপাশি, নিজেকে দেশপ্রেমিক রুপে প্রমানের তাগিদও আমার নেই আমি এই দেশের এক নাগরিক দেশের মাটিতে যে ধান গম হয় তার খুবই সামান্য অংশ হলেও উহাতেই আমি লালিত পালিত দেশের-ই খাই আবার দেশের মাটিতেই পটি করি তাই দেশের পটিকুল পরিস্থিতি তে দেশপ্রেমের ডেফিনিশন জানিতে বড় ইচ্ছে করছে আর যাই হোক, অন্য কোন দেশ তো আমায় খেতে পরতে দেয়না সুতরাং দেশের প্রতি আমার একটা দায় বর্তমান তবে দায়ভার বর্তায় বলিয়া দেশের মাথায় যে সমস্ত নেতা মন্ত্রীরা আসীন তাদের কথায় হ্যাঁ তে হ্যাঁ এবং না তে না মেলাতে পারব না দেশের আইন মেনে চলতে হয় নেহাতই বেচে থাকার তাগিদে। তাবলে যে উহার ওপর আমার খুব ভরসা তা বলিতে পারিনে। যে দেশের আইন ধর্ষক কে নাবালক বলিয়া ছাড়িতে পারে সেই আইনে কিভাবে আমি ভরসা করিতে পারি। তা বলে দেশের কোন দোষ নাই। কিছু ‘ডিগ্রিধারী’ অশিক্ষিতের ছেলেমানুষীর দায় আমায় নিতে হবে এমন কেউ মাথার দিব্ব্যি আমায় দেয় নি, দেশকেও নয়। যে আইনে নীতিবোধ কে খুব সহজে জলাঞ্জলী দিয়ে মানুষের নিতম্বে সজোরে চাঁটি দেওয়া সম্ভব সেই আইন কে আমার ঠিক ভাললাগে না। কোন এক দল নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে আইন প্রনয়ন করিল, তাতে এক শ্রেণীর কি সর্বনাশ হইবে তা না ভাবিয়া আইন পাশ করিয়া দিল। এই খানেই আমার আপত্তি। দেশ, উহার আইনও মানুষের জন্যে। সেই আইন যদি মানুষের (সে সংখ্যাগুরু হোক বা লঘু) কথাই নয়া ভাবিল তা কি মান্যতা পাওয়া উচিত? বোধকরি নয়। সুতরাং আমার সাথে অন্যায় হলে (আমি আপাতভাবে আফজল গুরু কে নিয়ে চিন্তিত নই), আমি তো চেঁচাবই। তেমনই আমার পরিবার, পড়শি, তথা দেশের হয়ে কেউ বিরোধীতা করলে-ও। কিছু অপগন্ড মুর্খের মতন দেশের নামে বাজে কথা বলে চলেছে। তোমার দাবী টা কি বাছা! দেশ নিয়ে তো সমস্যা হওয়া উচিত নয়। দেশের অপদার্থ আইন প্রণয়নকারী নেতা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে চ্যাঁচাও। সমস্যা হল কে যে চেচাচ্ছে আর কার বিরুদ্ধে চ্যাঁচাচ্ছে কেউ ঠিক জানে না। সবাই ‘দেশপ্রেম’ বলে লাফাচ্ছে। আরে এইটাই হল মজা। কাদা ছোঁড়াছুড়ির গেম শো। একদল নিজেকে দেশপ্রেমিক বলিয়া লাফাচ্ছে। আরেকদল আফজল গুরু কে ধর্মগুরু ভাবিয়ে কেদে কেটে একসা। পুলিশ দেশের নেতাদের পা চাটিতে আর জনগনের পকেট কাটিতে ব্যাস্ত। সিয়াচেনে সৈনিক মারা গেলে হাপুশ নয়নে একসঙ্গে “মেরে বতন কে লোগো” তে গলা মিলিয়ে কাহাতক আর দেশাত্মবোধ প্রমান করা যায়। দেশের এত সমস্যা সব তো আর মেটান জাচ্ছে না। অতএব জনগনের নিতম্বে আদুরে টোনা মেরে, মুখে তুলে দাও সাম্রাজ্যবাদের লপসি। বাকি দায়িত্ব জনগন-ই নিয়ে নেবে। বেশ কটা মাস নিশ্চিন্ত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অপরাধের সাজা হওয়া বাঞ্ছনীয় তাই আফজল গুরুর ফাঁসিতে আমি বিচলিত নই মোটেই। কিন্তু গুজরাট দাঙ্গা, মুনিপুরের মহিলাদের প্রতি অবিচার তথা আরও দেশের তাবর তাবর অন্যায় গুলির প্রতি দেশের আইনের নাক সিটকানো দেখলে মস্তিস্ক ডিনামাইট হয়। এই ডিনামাইট ফাটিলে তার শব্দ অন্যায়কারীর গায়েই আঘাত হানে। এখন প্রশ্ন হল, আমি কি দেশবিরোধী? 

কোন মন্তব্য নেই: