ভাগ্য যে সর্বদা সুপ্রসন্ন হবে তার কোনও মানে নেই। আমার ভুরুর ওপরে চার আঙুল এরিয়া এমনিতেই ফোঁড়ার আঁতুড় ঘর। তারপরে মশার কামড়ে
জায়গা টা চাঁদের পৃষ্ঠতলের মতন এবড়ো খেবড়ো। ভগবানের আর দোষ কিসে দেই? এইতো সকালে ঘুম থেকে উঠে মাইকেল এঞ্জেলোর মূর্তির মত আড়মড়া ভাঙতে
যাব, নিউজপেপার ওয়ালার ঠকঠক। গ্রীলের খামচিতে পেপার
গুঁজে, দন্তমাড়ি প্রদর্শন পুর্বক বলে গেল, মেরি ক্রিসমাস। আমি নিরুত্তাপ। একগাল হেসে ক্রিসমাস কে বরন করলাম। তারপর ব্রাশে পেস্ট লেপে দাঁতের
প্রত্যেক কোণে খামচিতে লেপে দিচ্ছি। ঘষঘষ করে ঘষে জিহ্বা টু আলটাকরা
পরিষ্কার করতে যাব, মোবাইল টা তারস্বরে
চেচাতে লাগল। কারেন্টপোষ্য শিশু আমার। প্লাগে চার্জার গুঁজে
দেখি ১০৮ টা আনরিড মেসেজ। শুভেচ্ছা বার্তার আয়লা চলছে। বন্ধুরা অতি উৎসাহী। পার্ক স্ট্রীটে গিয়ে মোচ্ছবের প্ল্যান আঁটছে। আমি বাপু জন্ম ল্যাদ। সারাদিন বাড়িতে শবাসনের ডিসপ্লে করার প্ল্যান আঁটছি। তবু বেরোতে হল। অগত্যা বিশড়পাড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে কোনোমতে
নিজের সম্ভ্রম বাঁচিয়ে দমদম এলুম। রাস্তা ঘাটে শিশু থেকে দামড়া বুড়ো
সবাই আলিমুদ্দিন টুপি পড়ে সান্টা সেজেছে। স্টেশনে একগাদা নকল দাড়িগোঁফও
বিক্রি হচ্ছে। মাকন্দরা বুকে বল পেল এতদিনে। যাহোক এবার পাতালে প্রবেশের পালা। ফিলিং সীতা। রবীন্দ্র সরোবর নামতে হবে। বন্ধুরাই টিকিট কাটছে, কোথায় কি যাবে প্ল্যান আঁটছে। রাস্তাঘাট কিছুই চিনিনে। আমি কেবল তাদের পিছু পিছু হাঁটছি আর বক্তিমা ঝাড়ছি। ক্ষণিক পরেই মেট্রোয়
প্রবেশ করলাম। লেডিজ সীটের সামনে ইশান কোন বরাবর দাঁড়িয়ে মেয়ে
দেখছি। হেন মধ্যে ঠিক শ্যামবাজারে একটি সুন্দরী তরুনী এন্ট্রি নিল। উফফ ঠিক যেন পরিনীতা চোপড়ার কুম্ভ মেলায় হারানো বোন। এক ত্যাঁদড় বন্ধু
কে বললাম, তোর হবু বৌদির সেটে আরেকজন কে অ্য়াড কর। বন্ধুরা শোনামাত্রই খ্যাকখ্যাক করে উঠল। আমি নিরুত্তাপ ভাবে নিজেই প্রেমের
রাস্তায় পিচ ঢালার দায়িত্ত্ব নিলাম। বারবার টেরিয়ে টেরিয়ে দেখছি। একেবারে মুখস্ত না হলে টেবিল ফ্যানের মত মাথা ঘুরিয়ে দেখছি। একবার চোখে চোখ পড়ে গেলে 'শ্রীমতী-র' পাশের ধুমসো মহিলার দিকে করুন ভাবে চেয়ে রইলাম। ভগবানও খুব রসিক। হটাত ই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউসিক; "তোমার মনে বসত করে কয় জনা মন জানো না
!" শ্রীমতির ব্যানানা টিউন;
"হ্যাঁ, আসছি সোনা। ... লাভ ইউ টু।"
ফোনের ওপর প্রান্তে তখনও ভালবাসা ট্রান্সমিট হচ্ছে। মুহুর্তে মনটা দীপা কর্মকার হয়ে গেল। কপালে অজান্তেই হাত দিলুম। ভুরুর ওপরটা আবার উচু উচু ঠেকছে মনে হল।
ফোনের ওপর প্রান্তে তখনও ভালবাসা ট্রান্সমিট হচ্ছে। মুহুর্তে মনটা দীপা কর্মকার হয়ে গেল। কপালে অজান্তেই হাত দিলুম। ভুরুর ওপরটা আবার উচু উচু ঠেকছে মনে হল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন